
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর ইউনিয়নের লক্ষীমণ্ডপ গ্রামে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় শ্বশুর ও পুত্রবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতরা হলেন—আলহাজ্ব মো. আফতাব হোসেন (৭০) ও তাঁর পুত্রবধূ রিভা খাতুন (২৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল আফতাব হোসেনের বাড়িতে ঢোকে। তারা বাড়ির লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে এবং সবাইকে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর ঘরের আলমারি ও অন্যান্য আসবাব তছনছ করে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়।
লুটপাট শেষে ডাকাতরা আলহাজ্ব আফতাব হোসেন এবং তাঁর বড় ছেলে প্রবাসী শাহজাহান আলীর স্ত্রী রিভা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ভোরে পরিবারের অন্য সদস্য ও স্থানীয়রা তাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন—ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বর্বরোচিত। এটি যে শুধু ডাকাতি নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সেটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক ইউনিট মাঠে কাজ করছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এলাকায় শোক ও ক্ষোভ নিহত আলহাজ্ব আফতাব হোসেন একজন অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ছিলেন। তিনি ধর্মভীরু ও সমাজসেবী হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে একজন গৃহবধূর নির্মম হত্যাকাণ্ডে জনমনে ক্ষোভও বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply