
বিরামবন্দরে ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, অতিরিক্ত আইজিপি বরখাস্ত
সরকার পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিআইজিপি) টুটুল চক্রবর্তীকে বরখাস্ত করেছে। রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নিজেকে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থল ত্যাগ এবং অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বুধবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, গত বছরের ১৩ নভেম্বর টুটুল চক্রবর্তী অনুমোদিত ছুটির একদিন আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং ছুটিতে যাওয়ার নির্ধারিত প্রতিবেদন জমা দেননি। এরপর তিনি রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নিজেকে ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ডিআইজি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের সকাল ১০টা ২০ মিনিটের ফ্লাইটে ঢাকায় যান। ১৪ ও ১৫ নভেম্বর তার কর্মস্থল ত্যাগের অনুমোদন ছিল। আর ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত ছিল তার নৈমিত্তিক ছুটি। তবে তিনি অনুমোদিত ছুটির একদিন আগেই কাজ থেকে সরে যান।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, টুটুল চক্রবর্তী এর আগেও একাধিকবার নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রাজশাহী বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেছেন। এসব ঘটনা গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসলে পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ঘটনার সময় টুটুল সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। প্রজ্ঞাপনে তাকে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে এবং চলতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না দিয়ে এবং সময় বাড়ানোর কোনো আবেদন না করায় গত ২ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। ৭ মে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয় বলে জানানো হয়। এরপর ১৬ জুন তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, কেন তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা করে সরকার তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) মতামত চায়। কমিশন গত ১৪ সেপ্টেম্বর তার শাস্তির জন্য সুপারিশ করলে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। গত ৫ অক্টোবর টুটুল চক্রবর্তীকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী সরকার তাকে শাস্তি দিয়েছে।
