খুলনা, বাংলাদেশ | |

Breaking News

  রিজভীর সঙ্গে মিতুলের সৌজন্য সাক্ষাৎ, আড়ংঘাটার নানা সমস্যা তুলে ধরলেন।
  আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কেশবপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
  নিরাপদ খুলনা চাই-এর উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  ছবি আছে গ্রামীন ঐতিহ্যের চিরচেনা খেলাধুলা বিলুপ্ত ঈদগাঁওতে 
  বিকেএসপিতে ডাক পেল ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরের ক্ষুদে ফুটবলার জিদান
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ শাহিনুর রহমান শাহিনের
  ফলোআপ ইসলামাবাদ থেকে চুরি হওয়া গরু দুইটি উদ্বার
  খুলনায় বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব খুলনা মহানগর শাখার ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত
  ডুমুরিয়া খর্নিয়ায় মামলা-হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ
  খুলনায় ইউপি নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।চেয়ারম্যান প্রার্থী মতলেবুর রহমান মিতুল এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত।

নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী, তদন্ত কমিটি গঠন, বিভাগ শিক্ষকদের অসহযোগিতা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ রয়েছেন। তার আবাসিক কক্ষ থেকে হাতে লেখা বেশ কিছু চিঠি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তা পাওয়া গেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে এবং চিঠিতে উল্লিখিত বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে সহপাঠীরা মোহাইমিনুলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তার কক্ষে গিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি পাওয়া যায় বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিভাগের শিক্ষকদের অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিকাল ৩টা ৮ মিনিটে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে উঠতে দেখা গেছে মোহাইমিনুল ইসলামকে। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মোহাইমিনুল ইসলাম মীর মশাররফ হোসেন হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার স্থায়ী বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরা বাড়ি এলাকায়।

ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠী মিম বলেন, “সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানতে পারি মুহাইমিনকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তার কক্ষে গিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি পাই। তারপর থেকে আমরা সবাই মিলে বিভিন্ন জায়গায় তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

মুহাইমিনের একাডেমিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চতুর্থ বর্ষের একটি কোর্সে তার ফেল এসেছিল। এ কারণে চলতি বছর ওই কোর্সের রিটেক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে মাস্টার্সের ক্লাসও করছিলেন। কয়েক দিন আগে তাকে জানানো হয়, চতুর্থ বর্ষের বিষয়ের পরীক্ষা আবার দিতে হবে। বিষয়টি তাকে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।”

সহপাঠীদের ভাষ্য, কক্ষে পাওয়া চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন, শিক্ষক এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে হতাশার কথা উল্লেখ রয়েছে। যেখানে তার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে বিভাগের শিক্ষকদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, বলেও জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েম বলেন, “আমি তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি। আমরা তার সন্ধানের বিষয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।”

তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান। তদন্ত কমিটির প্রধান গাণিতিক ও পদার্থ বিজ্ঞান অনুষদ ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুব কবির, সদস্য হিসেবে আছেন ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হুসাইন মো. সায়েম, সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. আল আমিন খান, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রক্টর অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সোহেল রানা। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হালিম বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই সাভার থানায় জিডি করা হয়েছে। পুলিশকে তার মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চিঠিতে বিভাগের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাকে খুঁজে বের করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

মোহাইমিনুল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আবদুল হালিম (০১৭১৪০১২৩১৫) অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী (০১৭১২৬৭৪৫৫৭)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 ichamotinews .com

Developed By: ShimantoIT