
পটিয়া উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে নাশতার পরিমাণ কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হওয়া এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে দুই রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নাশতার পরিমাণ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে মারধর করেছেন। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, মারধরের ঘটনা নয়, বরং ওই গৃহবধূ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত: ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় নিহত সিফাতুন নুরের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫) নিজ হাতে তৈরি নাশতা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। সে সময় নাশতার পরিমাণ কম থাকা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ, শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) এবং বেয়াইন রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) মিলে সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। প্রতিবেশীরা এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরপরই সিফাতুনের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তরের পর টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে তিনি মারা যান। নিহতের বাবা মো. নুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ১৪ অক্টোবর মা জুহিনুর আক্তার শাশুড়িসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, প্রাথমিক তদন্তে মারধরের কারণে নয়, বরং আত্মহত্যার চেষ্টায় এই মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তার স্বপক্ষে সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। মৃত্যুর পর এই ঘটনায় করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।
এর আগে প্রায় পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ার পর থেকে স্বামী বিদেশে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। যদিও পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান এই অভিযোগকে প্রাধান্য না দিয়ে আলাদা ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তবুও পরিবারের অভিযোগকে অস্বীকার করা হয়নি বলা যায়, বরং তা স্থান পেয়েছে সংবাদে
