
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে হাসপাতালে পৌঁছেন তিনি। পরিদর্শনকালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগী সেবার মান এবং হাসপাতাল পরিবেশ যাচাই করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি রোগীদের সাথে কথা বলার পাশাপাশি দুজন অসহায় ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, মোট ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে পরিদর্শনকালে ১২ জন অনুপস্থিত পाए जाते hain। তাদের মধ্যে সাতজন অন্যত্র সংযুক্তিতে কর্মরত এবং বাকি পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এই পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সাথে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে অবিলম্বে নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশও দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা করেন মন্ত্রী। পরিকল্পনা অনুযায়ী হাসপাতালে ১০টি ডায়ালিসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতা মায়েদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে এই প্রকল্পের DPP প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকে মুরাদনগর হাসপাতালে চিকিৎসক পদায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় উন্নতি লক্ষ্য করলেও বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনাকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, বর্জ্য ফেলার জন্য উপজেলায় উপযুক্ত জমির সংকট রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
এছাড়া হাসপাতালের জর্জ যানবাহনগুলো কনডেমনেশন প্রক্রিয়ায় আনার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তিনি। অ্যাম্বুলেন্স সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে। মুরাদনগর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান আগের তুলনায় ভালো হলেও কিছু অনিয়ম দেখা দিয়েছে বলে চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে। চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়ন, আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে মুরাদনগরের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার আশ্বাস দেন তিনি।
