
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের জন্য একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস (৭ নভেম্বর) উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই দিনটি জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন এবং দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, সিপাহি ও জনতার সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সব সময় সংহতি ও ঐক্য প্রকাশ করেছে। এই চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। তিনি আরও বলেন, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের সুদৃঢ় ঐক্যের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে, যার ফলে দেশ আবারও তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন। এ ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক শান্তি, সুশাসন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথ তৈরি করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চেপে বসেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী করা অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি।
জাতীয় সমস্যার সমাধানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আলোচনা এবং জাতীয় সংসদকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া উচিত। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আসুন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত-নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’ এ সময় তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
