লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ডিবি পুলিশের একটি সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুত করা সার উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ৫৬ বস্তা ইউরিয়া, ডিএপি ও এমওপি (পটাশ) সার জব্দ করা হয়েছে। পরে মোবাইল আদালতের রায়ে জব্দকৃত সার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং অপরাধীর ऊपर ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। খবরের মুখ্য উৎস অনুযায়ী, এই ঘটনা স্থানীয় কৃষক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল কালীগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর তুষভান্ডার ইউনিয়নের চর বৈরাতি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান দলটি গ্রামের বাসিন্দা জামাল মাস্টারের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় ওই বাড়ির ভেতর থেকে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৫৬ বস্তা সার উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সারগুলোর মধ্যে ইউরিয়া, ডিএপি (ডায়ামmonium ফসফেট) এবং এমওপি (মুরিয়েট অফ পটাশ) অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সার মজুত করণ একটি চিরকালীন সমস্যা যা প্রতিবর্ষ কৃষকদের ভোগান্তি সৃষ্টি করে। কৃষি মৌসুমের শুরুতে সার বিক্রেতা ও ব্যবসায়ী sınıবিশেষ সার কেনে সংচয় করে রাখে এবং পরে উচ্চ দরে বিক্রি করে অতিরিক্ত লাভ অর্জন করে। এর ফলে সাধারণ কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত দরে সার পান থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়া কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে বাজার দর বাড়ানো হয় যা দেশের কৃষি অর্থনীতিকে বড় ক্ষতি पहुँचায়। সরকার সার মজুত করণ রোধে কঠোর আইন বাস্তবায়ন করলেও এই প্রথা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
অভিযান সমাপ্তির পর কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোবাইল আদালত পরিচালনা করেন। আদালতে সার আইন লঙ্ঘনের দায়ে জব্দকৃত ৫৬ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অপরাধের সাথে যুক্ত থাকায় জামাল মাস্টারকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত কানूनी ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এই সফল অভিযান স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলাফল। ডিবি পুলিশের ওসি রওশন কবির নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সাব-ইনসপেক্টর রফিকুল ইসলাম, এএসআই মোশাররফ হোসেন সহ অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও কৃষি অফিসাররা ও অভিযান সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন দাবি করেছে, আগামি দিনেও সার মজুত করণ ও কালাবাজারি রোধে এই ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কৃষকরা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে। চর বৈরাতি গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, "প্রতিবর্ষ সার মজুত করণের কারণে আমরা উচ্চ দরে সার কিনতে বাধ্য হয়ি। আজকের এই অভিযান আমাদের জন্য একটি বড় সাহায্য। আশা করি প্রশাসন এভাবে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাবে।" অন্য একজন কৃষক রহিম উদ্দিন মন্তব্য করেন, "সার মজুত করণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কেবল জরিমানা নয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা দরকার।"
বাংলাদেশে সার ব্যবস্থাপন ও নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০৬ (২০০৯ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী সার মজুত করণ, কালাবাজারি ও সরকারি নির্ধারিত দর চেয়ে বেশি দরে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনের ধারা ১৫ অনুযায়ী, সার মজুত করণের জন্য ৫ বছরের পর্যন্ত ক্যাদ বা ১ লাখ টাকার পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়ই দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি জব্দকৃত সার বাজেয়াপ্ত করা হয়। মোবাইল আদালত এই আইনের অধীনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, জिले भरে সার মজুত করণ ও কালাবাজারি রোধে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। কৃষি মৌসুমের শুরু থেকে পণ্য সংগ্রহের সময় পর্যন্ত প্রশাসন সতর্ক থাকবে। ডিবি পুলিশের ওসি রওশন কবির বলেন, "আমরা গোপন সংবাদ সংগ্রহ করছি। যেকোনো স্থানে সার মজুত করণের খবর পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষক ভাইরা الحكومية দরে সার পেতে পারেন তা নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য।"
এই অভিযান কৃষকদের আস্থা বাড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল অভিযানই নয়, সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও পারদর্শী ও সহজ করতে হবে। কৃষকদের হাতের হাতে সার পৌঁছে দিতে ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তন করা যেতে পারে। পাশাপাশি সার বিক্রেতাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও স্টক যাচাই অব্যাহত রাখা দরকার।