কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রং ব্যবহার করার অভিযোগে একটি বেকারি মালিককে আদালত ने ১ বছর ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বিচারক ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম বুধবার (৭ অক্টোবর) এই রায় ঘোষণা করেন।
গত ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই বাজিতপুর উপজেলার সরারচর এলাকায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের নির্দেশে একটি অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযানদলে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, পুলিশ, র্যা বি ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে সান বেকারি ও সততা বেকারিতে অভিযান চালাতে গেলে মালিক মো. শামীম ফরার হয়ে যান। তবে সান বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রয় এবং খাদ্যে ক্ষতিকর রং ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।
ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ধারা ৩৩ ও ৪০ অনুযায়ী মো. শামীমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি আদালতে চলার পর ধারাবাহিক শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করা হয়। রায় অনুযায়ী, আইনের ৩৩ নং ধারার অধীনে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। আবার ৪০ নং ধারার অধীনে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মোট मिलিয়ে ১ বছর ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড।
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো। এই আইনের ধারা ৩৩ অস্বাস্থ্যকর বা ম্লান খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করে। আবার ধারা ৪০ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো উপাদান বা রং খাদ্যে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করে। এই রায় খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছে একটি সতর্কশীল সংকেত হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।