রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নে গত সোমবার থেকে লাপতা একটি কলেজ ছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা একটি মেহগনি বাগানের ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতক চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (২১) রাজবাড়ী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। চার দিন ধরে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মরদেহের পেট কাটা অবস্থায় পাওয়া গেলে এলাকাভাসী ও পরিবারवालারা সন্ত্রস্ত। পুলিশ হত্যার কারণ ও দোষীদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত শুরু করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ৫ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে রোহান বাসা থেকে বের হন। তারপর থেকে তার কোনো খবর পাওয়া যায় না। চিন্তিত পরিবারवाले সকলে খুঁজে বের করতে শুরু করেন। রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা যৌথভাবে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা স্থানীয়রা দাদশী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের একটি মেহগনি বাগানের ডোবায় একটি বস্তা ভেসে দেখেন। তদন্তে সেটি রোহানের মরদেহ বলে শনাক্ত হয়।
রোহান রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোঃ রোকনউদ্দিন চৌধুরীর নাতি। তিনি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমানের মামাতো ভাইও ছিলেন। এই ঘটনায় তার পরিবার অবर्णনীয় মাতমে আছেন। পিতামহ রোকনউদ্দিন চৌধুরী কণ্ঠস্বরোধে বলেন, "আমার নাতি কোনো কারনে কাউকে ক্ষতি করিনি। কারা ও কেন তাকে এভাবে হত্যা করেছে, সেটি জানতে চাই। আইনের শাসন কাম্য।"
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ পোস্টমার্টেমের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওসি উত্তম কুমার ঘোষ দাবি করেছেন, "তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত হত্যার কারণ ও দোষীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।" পুলিশ সন্দেহের ভিত্তিতে 벌써 কয়েকজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি কেন্দ্র করে দাদশী ইউনিয়ন ও আশেপাশের এলাকাভাসীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি করছেন। সমাজসেবী ও স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, এতো ছোট বয়সে একজন মেধাবী ছাত্রের এভাবে নৃশংস হত্যা সমাজে অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা রক্ষায় দ্রুত তদন্ত ও বিচারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।