জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় বৃহস্পতিবার বিকেল হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ো বাতাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আক্রমণকারী এই বাতাসে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে, যার ফলে বকশীগঞ্জ-সানন্দবাড়ী প্রধান সড়ক সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। দুপাশে যানবাহনের লম্বা সারি দাঁড়িয়ে আচেন করা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিকেলে আকাশে কালোমেঘ ঘিরে আসার সাথে সাথেই বগারচর ইউনিয়নের সারমারা, টাংগারিপাড়া, মোড়ারপাড়া, গোপালপুর, ধারারচরসহ আশপাশের এলাকায় প্রচণ্ড বেগে বাতাস চলতে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরনো ও বড় আকারের গাছপালারা একের পর একে ভেঙে ও উপড়ে পড়তে থাকে। এতে বেশ কিছু বসতবাড়ির টিনের ছাদ উড়ে গিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বকশীগঞ্জ-সানন্দবাড়ী আঞ্চলিক মহামার্গে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ পড়ে যাওয়ায় যানযাতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় যাত্রী ও চালকরা জানান, বাতাস শুরু হওয়ার কিছুক্ষণই बीতে সড়কের ওপর গাছ পড়তে থাকলে তারা কী করবেন তা বুঝতে পারেননি। এতে দুই পাশে মালবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাসসহ সাধারন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। রাতে সড়কটি পরিষ্কার না হলে কাল সকালও যান চলাচল স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা হাসান আলী জানান, সংবাদের পাওয়া পর্যন্ত তাদের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছিয়ে গাছপালা সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সড়কটি দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে। তবে বাতাসের বেগ কিছুটা কমলেও রাতে কাজ করা কঠিন হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, বাতাস থামার পর আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতির আঁকনো শুরু করা হবে। বসতবাড়ি, কৃষি জমি ও অন্যান্য সংস্থান কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নির্ণয়ের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত কোনো মানব জীবন হানির খবর পাওয়া যাইনি, যা একটু সান্ত্বনাদায়ক। যাইহোক, আঞ্চলিক কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, আম ও লিচুর গাছের পাশাপাশি বোরো ধানের শস্যের ওপরও এই বাতাসের প্রভাব পড়তে পারে।
বগারচর ইউনিয়নের সভাপতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, সড়কটি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা আঞ্চলিক প্রশাসন থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মৌসুম বিভাগের পূর্বানুমান অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় আবার বর্ষণ ও বাতাসের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।