ঢাকার সাভারের আশুলিয়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বুধবার রাত শিমুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত রোকসানা বেগম (৪০) গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ পাকুল্লা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মকবুল দুবাইতে প্রবাসী চাকরি করেন।
প্রায় দুই মাস ধরে রোকসানা বেগম ওই পাঁচতলা নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলায় পরিবারের সাথে বসবাস করছিলেন। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ছাদে থাকা পানির ট্যাংকি দেখতে যান তিনি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নিচে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে খুঁজবিন শুরু করেন। একপর্যায়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ছাদের এক পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
তথ্য পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহতের ভাই ইরাক বলেন, বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার বোনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরই তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রাত সাড়ে নয়টার দিকে বোনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন। তিনি আরো জানান, পরিবারের কারো সাথে কোনো বিতর্ক বা শত্রুতা ছিল না।
আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে হত্যার রহস্য উন্মোচন হবে বলে আশা করছেন পুলিশ।
এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও চিন্তা সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীরা দাবি করছেন, হত্যাকাণ্ডের पीछे থাকা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক। গত কিছুদিনে এলাকায় এইরকম ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বদলগাছীতে পেয়ারা গাছ থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার ঘটনাও স্মরণ করছেন অনেকেই।
পুলিশ সুতরাং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করছেন। পাশের ভবন থেকে কোনো সুরাগ পাওয়া যায় কিনা তা দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক দলও নমুনা সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর হত্যার সঠিক সময় ও পদ্ধতি স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, নির্মাণাধীন ভবনের কাজ চলমান থাকায় সেখানে অনেক শ্রমিক ও কর্মীর আনা-জানা থাকে। রাতের সময় ছাদে পানির ট্যাংকি দেখতে যাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা হলেও, এই সময় হত্যা হওয়া অনেক প্রশ্ন তুলে ধরে। নিখোঁজ তাবাসসুমের লাশ বস্তাবন্দী অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এমনকি গত বছর।
পরিবারवालারা কানুনগত সাহায্য চেয়েছেন। তিনি চান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা যারাই হোক, তাদের কঠোর শাস্তি করা হোক। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, তদন্ত ন্যায়সঙ্গত ও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হবে।