জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আটক করা ২৪ জন নেতা ও কর্মী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরাণীগঞ্জ থেকে তাদের রিহাইয়ের পর দলীয় সহযোগীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের স্বাগত জানানো হয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পুরান পল্টন এলাকায় অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পুলিশ তাদের আটক করেছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ কাটিয়ে তারা মুক্তি পেলেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পুলিশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২৪ জন নেতাকর্মী আটক করে। তাদের ওপর সাংগঠনিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া, সরকারি কাজে বাধা ও অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছিল। আটকের পর তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পেশ করা হয়েছিল। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। দলের দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কারাগার গেটের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের हुजুম জমা হয়েছিল। মুক্তি পাওয়া নেতাকর্মীদের ফুলমালা পরিয়ে এবং গুলাবের ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানানো হয়। উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণেই তাদের সহযোগীদের আটক করা হয়েছিল। তারা দাবি করেছেন, বিচারের দ্রুত নিপটারা এবং মামলার ফাঁকি ওঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য মিডিয়াকে বলেন, "এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদাহরণ। আমাদের নেতাকর্মীদের নিরপരাধ থাকার ওপরেও আটক করা হয়েছিল। আমরা আইনগত পথ অবলম্বন করব।"
আইনজীবীদের মতে, জামিন मिलা মামলার সমাপ্তি নয়। মামলার শুনানি চলবে এবং অভিযুক্তরা আদালতে হাজির থাকতে হবে। জাসদ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের আইনজীবী দল মামলার প্রতিটি ধাপে সক্রিয় থাকবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সংগঠনগত স্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে।
গত কয়েক মাস ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তীব্র থেকে গেছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটক, মামলা এবং গ্রেফতারের ঘটনা বেড়েছে। এদিকে, সরকার দাবি করছে, আইনের শাসন কায়ম রাখতে নিরপেক্ষভাবে کارরবাই হচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংগঠন এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক কারণে লক্ষ্যমাত্রা করে আটক করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মিছিল এবং গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক চলছে। অনেকেই আটককে রাজনৈতিক হিংসা বলে আलोचना করছেন। আবার কিছু লোক মনে করেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। সাধারণ মানুষ চান, রাজনৈতিক বিতর্কের সমাধান কথা বলার মাধ্যমে হোক, আটক-মামলার মাধ্যমে নয়।
জাসদ নেতৃত্ব মনে করে, এই ঘটনা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বাধা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীদের আটক হয়ে যাওয়া দলে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দলীয় কর্মীরা কিছুটা সান্ত্বনা পেয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, "আমরা কখনোই হিংসার পথ অবলম্বন করব না। গণতান্ত্রিক পথে আমাদের অধিকার সংগ্রাম চলবে।"
জামিনে মুক্তি পাওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারवाले খুশি প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, বিচার দ্রুত হবে এবং তাদের প্রিয়জনরা নির্দোষ ছাড়ানো হবে। জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি আগামী সপ্তাহে একটি সভায় এই ঘটনায় বিস্তারিত वक्तব্য দিতে পারে। রাজনৈতিক বেষ্টনে দেশবাসীর নজর আটকে আছে, আগামী দিনগুলো কী ঘটবে তা সবার কাছে কৌতূহলের বিষয়।