সরকার ने বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় — এই দুটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে সাবেক সচিব গিয়াস উদ্দিনকে নিয়োগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জানপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নিয়োগটি চুক্তিভিত্তিক এবং সচিব পদমর্যাদায় প্রদত্ত হয়েছে, যা প্রশাসনিক গলিয়ারায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় বানিয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বর্তমানে দেশের আকাশপথ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আধুনिकीकरण এবং পর্যটন উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একপক্ষে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি গড়ার দায়িত্বে আছে। এই দুটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় এবং नीতি-নির্দেশনায় একজন অভিজ্ঞ প্রশাসকের উপস্থিতি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের সাথে সাংগতিক বলে মনে হচ্ছে।
গিয়াস উদ্দিন इससे पहले বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে কাজ কর चुके हैं। তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা, নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা এবং জটিল ফাইল প্রক্রিয়া দ্রুত নিপটানোর অভিজ্ঞতা এই নতুন দায়িত্বে কাজ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তিনি অন্যকোনও পেশা, ব্যবসা বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জড়িত থাকবেন না — যা হিতের দ্বন্দ্ব এড়াতে একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতি gần বছরের সরকারে বর্ধমান প্রবণতা পাচ্ছে। এর মাধ্যমে অভিজ্ঞ কর্মশক্তি króটকালীন বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আনা যায়, পেনশন ও অন্যান্য স্থায়ী সুবিধার বোঝা কমে। গিয়াস উদ্দিনের মামলায় সচিব পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক হায়ারার্কিতে তাদের অবস্থান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার স্পষ্ট করে। এটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয়ে সুবিধা সৃষ্টি করবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত উন্নতি, শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত সুনির্দিষ্ট করা, পাঠ্যপুস্তক বিতরণে পারদর্শিতা — এগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্তমান বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ে হাওড়া বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ, আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলো সক্রিয় করা এবং পর্যটন সুবিধা বর্ধন — এগুলো সময়সাপেক্ষ চাহিদা। গিয়াস উদ্দিনের দ্বৈত দায়িত্ব এই দুটি সেক্টরে গতিশীলতা আনতে পারে বলে অভিজ্ঞরা মনে করেন।
গত দিনों শিক্ষা খাতেই 'প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সরকারের: উপদেষ্টা মাহদী আমিন' বিষয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অন্য একজন উপদেষ্টা, যা শিক্ষা ব্যবস্থার শুদ্ধিয়ে তোলার প্রতি সরকারের প্রতিবদ্ধতা প্রতিফলিত করে। নতুন বিশেষ সহকারীর নিয়োগ সেই ধারার امتدান বলে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ সহকারী পদ সৃষ্টি করার পেছনে প্রধান লক্ষ্য হলো মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে রাজনৈতিক নির্দেশনার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করা। গিয়াস উদ্দিন যেন একজন অভিজ্ঞ সচিব, তার নিয়োগ এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক হবে। তবে দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একসাথে নিতে হবে তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জিং — সময় বিনিয়োগ, ফাইল অনুমোদন এবং মন্ত্রীদের সাথে সমন্বয় রক্ষা করা হবে কঠিন।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সংস্কার এবং দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবহারের একটি নমুনা। আগামী দিনগুলোতে গিয়াস উদ্দিন কীভাবে এই দুটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করবেন এবং কোনো নীতিগত পরিবর্তন আনবেন — তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। শিক্ষা ও বিমান পরিবহন — দুটি সেক্টরই সরাসরি জনগণের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। তাই এই নিয়োগের ফলাফল জনস্তরে অনুভূত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সংবিধান ও আইনানুসারে সরকারকে বিশেষ সহকারী নিয়োগ করার অধিকার আছে, তবে এই পদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্পষ্ট থাকা জরুরি। জানপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনটি সেই স্পষ্টতা আনে। দেশবাসীরা এখন নতুন বিশেষ সহকারীর কর্মকাণ্ডের দিকে তাকিয়ে থাকবেন।