
বায়তুল মোকাররমের খতিবের বক্তব্যকে ঘিরে রাজধানীতে বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে সমবেত হওয়া একদল মুসল্লি জামায়াতে ইসলামী ও তার প্রতিষ্ঠাতা মওদূদীকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘মওদূদীর আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ বলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেছেন, বায়তুল মোকাররমের খতিব মুসল্লিদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলে তাঁকে এই মসজিদে খতিব হিসেবে বহাল রাখা হোক, এটাই তাঁদের দাবি। একই সঙ্গে তাঁরা উল্লেখ করেছেন, ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি নয়; এটি সব মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়।
ওলামা পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা এই বিক্ষোভে যোগ দেন। তাঁরা বলেন, খতিবের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের জের ধরে তাঁরা রাস্তায় নেমে এসেছেন।
সম্প্রতি খতিব মুফতি আব্দুল মালেক কিছু বক্তব্য দেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি সেই বক্তব্যে কওমি আলেমদের জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়াকে ‘গোমরাহি’ বা ‘পথভ্রষ্টতা’ বলে উল্লেখ করেন এবং জামায়াতের লোগোতে ব্যবহৃত ‘আকিমুদ-দ্বীন’ শব্দের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর ভাষ্য, শব্দটির মাধ্যমে ইসলামের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই বক্তব্যের পর খতিবের সমালোচনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। শুক্রবারের বিক্ষোভকে সেই বিতর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, খতিবকে অপসারণের উদ্যোগের পেছনে জামায়াতের ভূমিকা রয়েছে—এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জামায়াতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বায়তুল মোকাররম দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মসজিদের খতিবকে ঘিরে এমন বিতর্ক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিসরে তাৎপর্য তৈরি করেছে। একদিকে খতিবের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরা তাঁর দায়িত্বে বহাল থাকার দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে জামায়াতের আদর্শ ও ধর্মীয় পরিভাষার ব্যবহার নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনাটিয় ধর্মীয় মতপার্থক্য, রাজনৈতিক জোট এবং জাতীয় মসজিদের খতিবের ভূমিকা—তিনটি বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে ঘটনার মূল্যায়ন করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের মধ্য দিয়েই বিতর্কের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ