
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে পড়েছিল। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিএনপি ব্যাপক আত্মত্যাগ করেছে এবং রক্তঝরা আন্দোলন চালিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সর্বদা রাষ্ট্রীয় ও জনস্বার্থকে দলীয় স্বার্থের চেয়ে প্রাধান্য দিয়েছে।
শুক্রবার বিকেল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ‘কমল কুঁড়ি’ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসনে বক্তব্য রাখতে হলে রিজভী এ কথাগুলো বলেন।
জামায়াত-এ-ইসলামের নেতা মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আক্তারুজ্জামানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্যায়, অনিয়ম বা অব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নাগরিক অধিকার, কিন্তু কাউকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা বা হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রিজভীর মতে, আক্তারুজ্জামান পূর্বে বিএনপিতে ছিলেন, কিন্তু কখনোই দলীয় শৃঙ্খলা মানেননি। গত ১৫-২০ বছর ধরে টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার পরেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
গতদিনে হাজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটিত ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক সামরিক কর্মকর্তার ওপর হামলার চেষ্টা ও নিম্নপদস্থ কর্মীদের সাথে হাতাপাই করা सर्वथा অনীতি। বিষয়টি নিয়ে আইনানুসারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তিনি আরো জানান, আক্রমণকারী ব্যক্তি সম্প্রতি যে রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন, সেটি দুর্ভাগ্যজনক। জামায়াত নেতৃত্বকে আহ্বান করে তিনি বলেন, সারা দল সেই ব্যক্তিকে বহিষ্কারের জন্য অবিলম্বে বিবৃতি প্রস্তুত রাখা উচিত।
রেমিট্যান্সকে দেশের অর্থনীতির জীবনরক্ত বলেও রিজভী অভিমত দেন, লাখ লাখ পরিবারের জীবনযাত্রা এই টাকার ওপর নির্ভরশীল। প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর হুমকি দেয়া দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি চরম রাষ্ট্রবিরোধী, মানবতাবিরোধী ও জনস্বার্থবিরোধী বলে চিহ্নিত করেছেন।
জামায়াত-এ-ইসলামকে লক্ষ্য করে তিনি আরো বলেন, এই দল কখনোই জাতীয় বা জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েনি, বরং সর্বদা দলীয় স্বার্থকে সামনে রেখেছে। ১৯৭১, ১৯৮৬ এবং ২০২৪ সালের ঘটনাগুলোকে উদাহরণ হিসেবে আনার মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, প্রতিবারই জামায়াত রাষ্ট্রীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি সর্বদা রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।