
তাজমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন রাজু, একমাত্র অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমন
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় কক্সবাজারের যুবক রাজু চৌধুরীর (২০) কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত একমাত্র ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) গ্রেপ্তারকৃত সুমন মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় নামেন তাজমিন। এরপর রেসকোর্স এলাকার বাড়িতে ফেরার জন্য তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অটোরিকশাচালক সুমন তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত। এরপর পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কুমিল্লার একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ফেসবুকে তার পরিচিতি, মাত্র সতেরো দিনের বন্ধুত্ব এবং কক্সবাজার ভ্রমণের বিষয়গুলো সামনে আসে। রাজু চৌধুরীর সাথে পরিচয়ের সূত্রে তাজমিন কক্সবাজারে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল।
রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করতেন। ফেসবুকের মাধ্যমেই তাদের পরিচয় হয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাজমিন তার মায়ের কাছে বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে তিনি প্রথমে পাশের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া যান এবং সেখান থেকে কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।
কক্সবাজারের কক্সেস পেনারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির কর্মী আবদুল্লাহ শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার পর তাজমিন ও রাজু বাসের টিকিট কাটতে কাউন্টারে এসেছিলেন। তিনি তখন তাদের একজন ছেলে ও একজন মেয়ে হিসেবেই মনে রেখেছিলেন এবং অন্য যাত্রীদের মতোই স্বাভাবিকভাবে তাদের দেখেছিলেন। রাজু পরের দিন বুধবারের জন্য একটি টিকিট কটেছিলেন।
আবদুল্লাহ জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাসটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে। রাতে বাসটি কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানে পৌঁছায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বাস থেকে নামছেন তাজমিন। এরপর রেসকোর্স এলাকার বাড়ির জন্য তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেন আবদুল্লাহ। পরে বাসে যাত্রা করা মেয়েটিকে তাজমিন হিসেবে শনাক্ত করেন তিনি। পুলিশ তার কাছে তথ্য চাইতে পারে—এমন ধারণা থেকে ঘটনাটি মনে রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তিনি জানান। পরে তিনি জানতে পারেন, তাজমিনের সাথে কক্সবাজারে যাওয়া রাজু হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।