
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ও রিমির জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শুনানি শেষে আদালত আয়াস ও রিমির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে। সূত্র জানায়, শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের আয়াসের আইনজীবীদের কয়েকজনকে জামায়াতের সমর্থক বলে মন্তব্য করায় একটি প্রতিবাদ জানানো হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ্যে বিচারক এজলাস ছেড়ে চলে যান।
এসময় আয়াস আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এসব করে আমার জীবন ধ্বংস করবেন?” পরে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে বিচারক পুনরায় এজলাসে ওঠেন। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা বিচারকের কাছে ক্ষমা প্রার্থী করেন। শুনানি শেষে আদালত আয়াস ও রিমির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রাফিতি মোছাকে কেন্দ্র করে আয়াসের আইনি সমস্যা
এই জামিন শুনানির পেছনে রয়েছে গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আইনজীবীদের হাতে গ্রাফিতি আঁকার ঘটনা। ওই ফুটপাতের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি আঁকা হয়।
শুক্রবার জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সেখানে সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের প্রতিকৃতি আঁকা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।
এরপরদিন শনিবার আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের নেতৃত্বে একদল লোক ওই গ্রাফিতিগুলো মুছতে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে আয়াসের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং তাঁর জামিন শুনানি নিয়ে আদালতে উত্তেজনা তৈরি হয়।