
একটি মানববন্ধনের উদ্যোগে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এফডিইবি)-র কেন্দ্রীয় কমিটি শনিবার ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে একটি কার্যকরণ আয়োজন করেছে। এই অনুষ্ঠানের প্রধান দাবি হলো ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ার্স শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণ, ভর্তির কোটা এবং পদের সুবিধা নিশ্চিত করা, পাশাপাশি বৈষম্য ও অস্থিরতা দূর করা।
বক্তারা ঘোষণা করেন যে ১০ম গ্রেড থেকে উপসহকারী প্রকৌশলী পদের দৃঢ়ভাবে উন্মুক্ত করা থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থান, পদোন্নতির সুযোগ ও পেশাগত উন্নয়নে গম্ভীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে, প্রকৌশল শিক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়ে অধ্যয়নরত ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবর্তন নিয়েও অনিশ্চয়তা লাগে। এই সংকট তার ব্যাপক প্রভাবে প্রকৌশল খাতে অস্থিরতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং সরকারের সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে, অনেকে মনে করছেন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ১৯৭৮ এবং ১৯৯৪ সালের সরকারি আদেশগুলোর উপর ভিত্তি করে জানেন যে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদ এবং ৩৩ শতাংশ পদোন্নতির অধিকার নিশ্চিত। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান—যেমন পিডিবি, ডিডিইসি, নেসকোসহ বিভিন্ন সংস্থাে—কে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নিয়োগবিধি সংশোধনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সংখ্যা কমিয়ে তাদের পদোন্নতির সুযোগ সীমিত করে তুলেছে, যা তাদের অর্জিত অধিকার বাজার করছে। এছাড়াও, কিছু প্রতিষ্ঠানে “নিয়োগবিধি/পদোন্নতি জ্যেষ্ঠতা নীতিমালা” তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে এবং হ্যারানিমূলক মামলার নিরাপত্তার জন্য কিছু পদ আবদ্ধ রাখা হচ্ছে।
এফডিইবি এই পরিস্থিতিতে দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছেন যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ১০ম গ্রেডভুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী পদের জন্য সর্বত্র উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব, যা অবিলম্বে অস্বীকৃতি করা যাবে না। একই সাথে বিদ্যমান সরকারি বিধিগুলো এবং সঠিক কর্মরাজ্যের কাছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার সংরক্ষণের দাবি করা হয়েছে।
শিলেট, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে চলমান শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই দাবিগুলো তুলে ধরা হচ্ছে। বক্তারা জানান যে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করা এবং কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের জন্য ভর্তির কোটা এবং সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা নির্দেশ করেছেন যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে হবে।
এছাড়াও, এফডিইবি কেন্দ্রীয় কমিটির দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা জানান। সমগ্র পেশাদারিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার সাথে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবদ্ধতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
শেষপদে সম্পাদক মোঃ আব্দুছ ছাত্তার শাহ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রতিনিধীর কথা বর্ণিত হচ্ছে যারা এই জনগণের পক্ষে স্বচ্ছভাবে আলোচনা করেছেন।