
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তানের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার মধ্যে পাকিস্তান দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তার প্রশ্নে পাকিস্তান আপসহীন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আরও বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পাকিস্তানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও ইসলামের দুই পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তাও পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান দৃঢ় ও আপসহীন। সৌদি আরবকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত “মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট” প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোটটির মূল উদ্দেশ্য সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্মিলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা। জোটটির কোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ। তবে সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হামলা হলে সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রের মতে, এ ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা।
হুতি বিদ্রোহীদের হামলা নিয়ে ইরানকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শরিফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে সবাইকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না উল্লেখ করে তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “আমাদের একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে।”
এদিকে চলতি অক্টোবরের শুরুতে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের আওতায় জরুরি বৈঠকে বসে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে দেশগুলো একমত হয়।
গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
জোটে ভবিষ্যতে নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তিন দেশের রাজনৈতিক, কৌশলগত ও সামরিক নেতৃত্ব।
সূত্র: ডন