
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের কাটাবাড়ি এলাকায় সরকারি বাগানের গাছ কাটার ঘটনায় উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি জাহিরুল ইসলাম এই বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তাঁর বক্তব্য, সরকারি বাগানের গাছ কাটার ঘটনায় তাঁকে কোনো অভিযোগ লাগেনি। নদীভাঙনের ঝুঁকিতে কবরস্থান রক্ষা ও নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছিল বলে তিনি দাবি করেন। নদীর তীর স্লিপিং করার সময় ঠিকাদার লোকজন গাছগুলো উপরে ফেলে বলে তিনি জানান। পরে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার নির্দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং গাছ বাড়ির সামনে রাখা হয় বলে জানান তিনি।
এই বক্তব্যগুলো জাহিরুল ইসলামের প্রতিবাদ ও ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা। সংবাদ প্রকাপণের আগে তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সংবাদ প্রকাপণের অনুরোধ জানান। সম্প্রতি কাটাবাড়ি এলাকায় সরকারি বাগানের গাছ কাটার অভিযোগে বন বিভাগের ২১ টুকরো ইউক্যালিপটাস গাছ জব্দের ঘটনায় জাহিরুল ইসলামকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাপণ হয়। এরপর তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে সংবাদ প্রকাপণের আহ্বান জানেন।
প্রতিবাদলিপিতে জাহিরুল ইসলাম আরও বলেন, গাছ কাটার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং কবরস্থান রক্ষা ও নদীভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। গাছের বিষয়ে বন বিভাগকে অবগত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। প্রতিবাদে বলা হয়, নদীভাঙনের কারণে এলাকার একটি কবরস্থান হুমকির মুখে পড়লে সেটি রক্ষা এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়। পরে প্রায় ৬০০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
তাঁর দাবি, বাঁধ নির্মাণের জন্য নদীতীরের মাটি কাটার সময় কবরস্থানসংলগ্ন কিছু গাছ উপড়ে পড়ে। পরে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার নির্দেশে গাছগুলো তাঁর বাড়ির সামনে রাখা হয়। পরবর্তীতে বিট কর্মকর্তা গাছের টুকরোগুলো বন বিভাগের কার্যালয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি গাছ বহনকারী ট্রলিতে আটকে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাঁকে সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও বন বিভাগের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সংবাদ প্রকাপণের অনুরোধ জানান। বনবিভাগের সেই বাগানের পাহাড়াদার এরশাদ হোসেন জানান, জাহিরুল প্রধান তাঁতীদল নেতা কোন গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত নন, তাকে কিছু লোক ফাঁসিয়ে দেন।
এর আগে সরকারি বাগানের গাছ কাটার খবর পেয়ে পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে সেখান থেকে ২১ টুকরো ইউক্যালিপটাস গাছ জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকার বেশি বলে জানিয়েছিল বন বিভাগ। এ ঘটনায় কয়েকজনের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে বিট কর্মকর্তা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।