
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে তাঁদের বাড়ির ওপর দিয়ে ভারতীয় চোরাই পণ্য ও মাদক পাচার রোধ করার চেষ্টা করার জেরে এই হামলা হয়। আহত জাহানারা বেগম (৬৫) বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রয় (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার পরপরই এলাকাবাসী অভিযুক্ত মিজানুর রহমানকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিচ্ছে। এজাহারে মিজানুর রহমান (৬০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শংকুচাইল বাজারে কুমিল্লা-বাগড়া-বুড়িচং সড়কে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় চোরাচালান ও মাদক কারবার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। পরে পাঁচোড়া বাজারে আরেকটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
আহত নারীর ছেলে রমজান হোসেন মানববন্ধনে অভিযোগ করেন, স্থানীয় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত মিজানুর রহমান ও মনজুরুল আলম বাবুসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। তিনি বলেন, তাঁদের বাড়ির ওপর দিয়ে চোরাচালান রোধ করার চেষ্টা করার কারণেই তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, স্থানীয়দের হাতে আটক মিজানুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।