
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার রাজারহাট গ্রামী বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে। বারবার হয়রানির শিকার হয়ে তারা পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রামবাসী ফজলুল হক নামে এক আইনজীবীর হয়রানির শিকার। তিনি পঞ্চগড় আদালতের শিক্ষানবিশ ও মৃত মীর বকসের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফজলুল হক তুচ্ছ ঘটনা বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশী ও সাধারণ মানুষকে অপহরণ, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। তার কথা শুনলে বা দাবিকৃত অর্থ না দিলে তিনি নিজেই বা আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রামবাসী বলায়, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে তিনি এ ধরনের কাজ চালিয়ে আসছেন। তার দায়ের করা অনেক মামলা গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন দপ্তরের তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সাক্ষী দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাক্ষীকেও আসামি করার নজির রয়েছে। সম্প্রতি তরিকুল ইসলাম ও আব্দুল খালেক নামে দুই ব্যক্তি সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। ঠাকুরগাঁও জেলায় অপহরণের মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে আব্দুল খালেককে তুলিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। পরবর্তীতে আপস-মীমাংসা হলেও তিনি পুনরায় একই কালক্ষেপণ করেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফজলুল হক প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন গ্রামবাসীকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়েছেন। এর মধ্যে দেবীডুবা এলাকার সফিউল ইসলাম, কামাল উদ্দিন, সুরুজ আলী, মরিয়ম বেগম, মিনা খাতুন ও শহীদুর রহমানসহ শতাধিক মানুষ তার হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ফজলুল হক নিজে বাদী হওয়ার পাশাপাশি ভাড়াটিয়া বাদী ব্যবহার করেও এসব মামলা পরিচালনা করেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আব্দুল খালেক ও আজহার আলীসহ ভুক্তভোগীরা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্ত ফজলুল হকের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল কেটে দিয়ে পরবর্তীতে সাংবাদিকের সাথে কথা বলেননি।