
ভৈরব ও সরাইলের নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক ও সমাজকর্মীরা, মিথ্যা মামলার আশঙ্কায় সংবাদ সম্মেলন
ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০২৬ইং: কিশোরগঞ্জের ভৈরব এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নদী থেকে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ছাড়াই অবৈধভাবে বালু তোলার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিক ও সমাজকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর মিথ্যা মামলায় হয়রানির আশঙ্কায় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমাজকর্মী ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল জানান, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া খলাপাড়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইছড়া, ষাট বাড়িয়া ও অরুয়াইল ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি, সাংবাদিক মাসুদ রানা বাবু এবং সাংবাদিক জাকির হোসেন হামলার শিকার হন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নদীর মাঝখানে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাজী শাহিন (ভৈরব পৌর বিএনপির সভাপতি) এবং তার ভাই শফিকুল ইসলাম মিয়ার নির্দেশে এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা বেকুল মিয়ার নেতৃত্বে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী দুটি স্পিডবোটে করে পিস্তল, রামদা ও দেশীয় চাপাতি নিয়ে তাদের ওপর হঠাৎ আক্রমণ চালায়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এই ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অভিযোগ আছে, ঘটনার পর ভৈরব থানায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী বিএনপি নেতার মাধ্যমে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে তদবির করা হয়েছে।
সংগঠকরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এবং একই সঙ্গে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে রাজনৈতিক প্রভাব বা প্রতিহিংসার শিকার হয়ে হয়রানিমূলক মামলার সম্মুখীন না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবিগুলো হলো:
১. ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া খলাপাড়া এবং সরাইলের পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইছড়া, ষাট বাড়িয়া ও অরুয়াইল ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় নদীতে প্রতিদিন ও প্রতিরাতে আনুমানিক ৭০টির বেশি ড্রেজার অবৈধভাবে লাগিয়ে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ও প্রযোজ্য আইনগত অনুমোদন নিশ্চিত না করে বালু উত্তোলন করা হলে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের ওপর হামলা এবং মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৪. সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়য়ের কোনো অপচেষ্টা হয়ে থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, পরিবেশগত প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার পরিপালন যাচাই করতে প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করতে হবে।
৬. নদী, নদীতীর, জনবসতি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
৭. সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের পেশাগত ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
তাদের বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক নয়। তাদের উদ্দেশ্য হলো নদী ও পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
তারা বিশ্বাস করেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিরা আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আসবেন।