
একাধিক মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রতি নতুন করে মনোযোগ দিয়েছে। আদালত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের জন্য কমিটি গঠন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রতিকার ব্যবস্থা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
দেশের আলিয়া ধারার মাদ্রাসাগুলো শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের তদারকি কাঠামোর আওতাভুক্ত। অন্যদিকে, কওমি মাদ্রাসাগুলো তাদের নিজস্ব শিক্ষা বোর্ড ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই দুটি ধারার মধ্যে তদারকির পার্থক্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে যে, যৌন নির্যাতনের অভিযোগগুলো কতটা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিযোগ গ্রহণের জন্য কমিটি গঠন এবং অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিকার ব্যবস্থা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। যদিও এই নির্দেশনা রয়েছে, তবে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার দুটি ধারার মধ্যে তদারকির পার্থক্য সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আলিয়া মাদ্রাসাগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, কওমি মাদ্রাসাগুলো ইমদাদুল উলুম বোর্ড এবং অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হয়। এই পার্থক্যটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগগুলোকে মোকাবিলায় সম্ভাব্য ফাঁকিগুলো তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এই দুটি ধারার মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়। যদিও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে, তবে বাস্তবায়ন এবং তদারকির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলোকে কেন্দ্র করে আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোতে, তদারকির ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।