
সীতাকুণ্ডে স্কুল পথে ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত ও স্বর্ণালংকার হরণের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ
চট্টগ্রাম, ২৫ অক্টোবর: সীতাকুণ্ড উপজেলায় রবিবার সকাল প্রাইভেট স্কুলে যাওয়ার পথে দশম শ্রেণির একটি ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার নুনাছড়া জাফরনগর সড়কে সকাল প্রায় ৯টার দিকে ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত ছাত্রী নাফিয়া সুলতানা তনিমা (১৬) জাফরনগর অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা প্রবাসী জহুরুল আলম মাস্টার। পরিবার সীতাকুণ্ড পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নুনাছড়া এলাকার নজর আলী মিস্ত্রির বাড়িতে বাস করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা মুখোশ ও ক্যাপ পরিধান দুই যুবক তার পথরোধ করে। প্রথমে মাথায় লাঠি আঘাত করার পর গলার স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল হরণ করে নেয়। বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকি দিয়ে ছুরি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় নাফিয়া স্কুলের দিকে দৌড়তে গিয়ে রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। স্থানীয়রা খবর দিয়ে পরিবারवालাদের জানান। মা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি জানা গেছে।
নাফিয়া জানান, হামলাকারীদের মুখে মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ থাকায় সে তাদের চিনতে পারেনি। তবে দাবি করলেন, এর আগে একই যুবকরা একাধিকবার তার পথ আটকে বিদ্যালয়ের একটি শিক্ষকের বিষয়ে জানতে চেয়েছিল এবং গালাগালি করার পাশাপাশি শিক্ষককে না জানানোর হুমকি দিয়েছিল। নাফিয়া ওই ঘটনাগুলো শিক্ষককে জানিয়েছিল। সে অনুমান করছেন, সেই তথ্য হামলাকারীদের কাছে পৌঁছানোর কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে এ হামলার যোগসূত্র রয়েছে কি না, অথবা স্বর্ণালংকার হরণই মূল উদ্দেশ্য ছিল কি না — এ বিষয়ে এখনো কিছু নিশ্চিত হয়নি।
ছাত্রীর বাবা জহুরুল আলম মাস্টার বলেন, «গ্রামের ভেতরে যদি মেয়েরা নিরাপদ না থাকে, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমি আমার মেয়ের নিরাপত্তা চাই। তা না হলে তো তাদের স্কুল বন্ধ করে দিতে হবে।» তিনি জানিয়েছেন, ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বনাম মামলা দায়ের করা হবে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়েছিল, তবে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মেয়েটির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা এর আগে দুই-তিনবার তার পথ আটকে থাকতে পারে; এ কারণে তাদের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় রয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থলের পাশে কয়েকজন কৃষক মাঠে কাজ করছিলেন। মেয়েটি সাহায্য চাইলে তাঁরা এগিয়ে আসতে পারতেন বলে পুলিশের ধারণা। সকল দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।