
ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের উত্তেজনার মুখে আটক হওয়া নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে (৩০) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে তাকে ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিকাল ৩টার দিকে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, সাথী আক্তার ফেসবুক লাইভে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। এই পোস্টের জেরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরই তাঁকে আটক করা হয়।
আদালতের আদেশের পর সাথী আক্তারকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রিয় কারাগারে পাঠানো হয়। এই ঘটনা সম্পর্কে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আইনজীবীদের মতে, ১৫১ ধারার অধীনে গ্রেফতারি পরওয়ানা সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে জারি করা হয়, যখন কোনো ব্যক্তি জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা তৈরি করেন বা সরকারি কর্মচারীকে বাধা দেন। এই ধারার অধীনে গ্রেফতারি পরওয়ানা সাধারণত সাময়িক হয়, তবে বিচারক যদি মনে করেন যে আসামি পলাতক বা অপরাধের আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হতে পারে।
সাথী আক্তারের আইনজীবী দাবি করেছেন যে তাঁদের মক্কেলের ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং গ্রেফতারি পরওয়ানা প্রয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর থেকে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সমর্থক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মন্তব্য আদান-প্রদান হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে যে পরিস্থিতি এখন শান্ত। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক চলছে। অনেকে এই পদক্ষেপকে মতামতের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন, আবার অনেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত চলাকালে সাথী আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।