
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বর্তমান প্রশাসক ডাঃ শাহাদাত হোসেনের এপিএস জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এনাম আলী জানুকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ অক্টোবর ভুক্তভোগী এনাম আলী জানু তার ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করে এই অভিযোগের কথা জানান।
ভিডিওতে এনাম আলী জানু দাবি করেন, গত ২৪ অক্টোবর স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সে সময় তিনি মেয়রের কাছে অভিযোগ করেন যে তার এপিএস জিয়াউর রহমান জিয়ার ক্ষমতার কারণে তিনি তার কাজ করতে পারছেন না, যা তার জীবিকা নির্বাহে বাধা সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, জিয়াউর রহমান জিয়া মেয়রের এপিএস হিসেবে তার প্রভাব ব্যবহার করে মোহাম্মদ নগরের সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চালাচ্ছেন। তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, মেয়রের এপিএসের প্রভাবের কারণে তাদের কলিজায় ব্যথা হচ্ছে, কারণ আগামী নির্বাচনে ভোট চাইতে গিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে, কিন্তু সেই জনগণ তাদের ধিক্কার দিচ্ছে।
এনাম আলী জানু ভিডিওবার্তায় জানান, গত ২৫ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদ নগর চত্বরে জিয়া তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন এবং গলা চেপে ধরে গালিগালাজ করেন। তিনি বলেন, ৬৩ বছর বয়সী একজন মানুষকে জিয়া জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি মেয়র সাহেবকে আমার বিরুদ্ধে কথা বললে কেন?” এনাম আরও বলেন, জিয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে না পারলে তিনি মারা যেতেন।
ভুক্তভোগী বিএনপির নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যদি তাদের মতো একজন নেতাকেও মেয়রের এপিএসের কাছে এইভাবে হেনস্তা হতে হয়, তাহলে তারা কীভাবে সংগঠন পরিচালনা করবেন।
এনাম আলী জানু অভিযোগ করেন, জিয়া মেয়রের এপিএস হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি আগে ঋণগ্রস্ত ছিলেন, কিন্তু এখন তার আধিপত্য বিস্তার ও অর্থ উপার্জনের বিষয়ে স্থানীয় মানুষ সবকিছু জানেন।
এই বিষয়ে এপিএস জিয়াউর রহমান জিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এনাম আলী মূলত রংমিস্ত্রি, এবং একটি কাজের কথা বলেছিলেন যা তিনি করতে পারেননি বলে এনাম রাগ থেকে এই অভিযোগ করছেন। আধিপত্য বিস্তারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদককে তার এলাকার সরেজমিন তদন্ত করার অনুরোধ জানান এবং এর বেশি কিছু বলতে অসম্মতি প্রকাশ করেন।
বর্তমানে এই অভিযোগের বিষয়ে কোন আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।