
বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যে ছয়টি সহযোগিতা আলোকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিশ্চিত করে দুটি দেশের মধ্যে এসব সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের সময় বাংলাদেশ ও জাপান বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে আরও গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রথা তুলে ধরেছে। সফরের মাঝখানে যুক্ত হয়েছে মোট প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে জানায় প্রসিকিউশন সচিব শাহাদাত স্বাধীন।
সমঝোতাগুলো মূলত সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে, বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য জাপান থেকে ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুদান চুক্তি রয়েছে। এছাড়া, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের জন্য এমওসি স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ঋণ প্রতিশ্রুতির মূল প্রকল্পগুলো হলো- প্রথমে, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন প্রকল্পে ১৫.৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), দ্বিতীয়ে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০.৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। মোট ঋণের পরিমাণ ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন হয়েছে, যা প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
ইস্টিমিয়ান সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসম্পর্কিততা আরও জোরদার এবং ভবিষ্যতে বিস্তৃত সহযোগিতার প্রয়োজন নিশ্চিত হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এসডিপি প্রোগ্রামের সমঝোতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সহযোগিতার জন্য এলওআই স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সব সমঝোতা জাপানের প্রধানমন্ত্রী সায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরের অর্জনের মূল অংশ হিসেবে রয়েছে।
সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের মস্তিক বিস্তৃতি এবং ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সহযোগিতার প্রয়োজন নিশ্চিত হয়েছে। এসব সমঝোতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক প্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।