
নওগাঁর বদলগাছীতে টিকটক সৃষ্টা মাসুদ রানার দাম্পত্য জীবনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে চলা বিতর্কের নতুন মোড় এসেছে। প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে তালাক দিয়ে বিয়ে করার বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর মাসুদ রানা মঙ্গলবার রাত ফেসবুক লাইভে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা জানিয়েছিলেন। এরপর বুধবারের লাইভে তিনি দাবি করেছেন, দ্বিতীয় স্ত্রী শ্যালিকা পূর্ণিমা তাঁকে তালাক দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশ করেছেন। যাইহোক, এই তালাকনামার আইনি কার্যকারিতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় ভাড়ার বাসায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সাথে বসবাস করতেন মাসুদ রানা। গত ২৪ অক্টোবর সেখানে হলুদের অনুষ্ঠান হয় এবং পরদিন ২৫ অক্টোবর মাসুদ রানা মৌসুমীর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ না করেই একই পরিবারের দুই বোনকে বিয়ে করার ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই তীব্র বিতর্কের কারণ হয়।
বিতর্কের পক্ষে সাফাই দিয়ে মাসুদ রানা দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ও সহযোগিতাতেই তিনি এই বিয়ে করেছেন। পূর্ণিমার অন্যত্র বিয়ে হলে পূর্বের কিছু টিকটক ভিডিও নিয়ে হয়রানির আশঙ্কা ছিল, তাই এ সিদ্ধান্ত নিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে এই ব্যাখ্যা সমালোচনা থামাতে পারেনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে মাসুদ রানা নিজের কাজটিকে 'সবচেয়ে বড় ভুল' বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় দিকগুলো আগে ভালোভাবে জানা থাকলে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতেন না। একই সময় তিনি পূর্ণিমাকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন।
এরপর বুধবারের লাইভে মাসুদ রানা দাবি করেন, পূর্ণিমা নিজে তাঁকে তালাক দিয়েছেন। তিনি তালাকনামার কপিও ফেসবুকে শেয়ার করেন বলে জানান। তবে আইনি দৃষ্টিতে এই তালাকনামার প্রামাণিকতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে মাসুদ রানার শ্বশুর মো. মান্নান বলেন, তিনি ও তাঁর মেয়েরা এলাকাবাসীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল না হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এলাকাবাসীর একটি অংশ ক্ষমা করলেও অনেকে এখনো ক্ষুব্ধ। বিষয়টি সমাধানে পরিবার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে মেয়েরা ও জামাই এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন এবং সবাই ভালো আছেন। ঘটনায় পরিবার লজ্জিত বলে মতামত দিয়েছেন শ্বশুর।
অন্যদিকে পূর্ণিমা বলেন, তিনিই (মাসুদ, মৌসুমী ও তিনি) সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এমন ভুল না করবেন এবং পরিবার ও সমাজের মানুষ যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।