
রাশিয়া আন্তমহাদেশীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছড়িয়ে দূরপ্রাচ্যের ওখোৎস্ক সাগরে একটি সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) সাগরে ডুবে অবস্থানকালীন একটি সাবমেরিন থেকে ‘বুলাভা’ নামকরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়, যা প্রায় ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার কিলোমিটার দূরের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সামরিক প্রশিক্ষণ মহড়ার অংশ হিসেবে ‘জেনারেলিসিমাস সুভোরভ’ নামের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন থেকে এ পরীক্ষা চালানো হয়। রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের ওখোৎস্ক সাগরের কাছে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয় বলছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেড রাশিয়ার আরখানগেলস্ক অঞ্চলের চিঝা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছে। উৎক্ষেপণস্থল থেকে লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার কিলোমিটার। পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়েই ওয়ারহেডগুলো লক্ষ্য এলাকায় পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরীক্ষার ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ভিডিওতে প্রথমে সমুদ্রে সাবমেরিন চলাচলের দৃশ্য দেখা যায়, পরে সাবমেরিনের ভেতরে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পরিচালনাকারী ক্রু সদস্যদের দেখানো হয়। একপর্যায়ে উৎক্ষেপণ বোতাম চাপার দৃশ্যের পর রাতের অন্ধকারে পানির ভেতর থেকে আগুনের শিখাসহ ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশের দিকে উঠে যেতে দেখা যায়।
‘আর-৩০ বুলাভা’ ক্ষেপণাস্ত্রটি ন্যাটোর শ্রেণিবিন্যাসে এসএস-এন-৩২ নামে পরিচিত। এটি রাশিয়ার সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। মস্কো ইনস্টিটিউট অব থার্মাল টেকনোলজি ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে এটি সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য গৃহীত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কঠিন জ্বালানিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৯ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। প্রায় ৩৭ টন ওজনের বুলাভা একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ব্যবহার করে।
‘জেনারেলিসিমাস সুভোরভ’ রাশিয়ার চতুর্থ প্রজন্মের ৯৫৫এ বোরেই-এ শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। এটি রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের অধীনে এবং কামচাটকায় অবস্থান করে। সেভমাশ শিপইয়ার্ডে নির্মিত সাবমেরিনটি সর্বোচ্চ ১৬টি বুলাভা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। এতে টর্পেডো অস্ত্রও রয়েছে।
রাশিয়ার বোরেই ও উন্নত বোরেই-এ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো দেশটির কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র আধুনিকায়ন কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরোনো সোভিয়েত আমলের পর্বাস্ত্রবাহী সাবমেরিনগুলোর পরিবর্তে এসব আধুনিক সাবমেরিন যুক্ত করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়ার বহরে এই দুই শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন রয়েছে। আরও কয়েকটি সাবমেরিন নির্মাণাধীন।
সূত্র: রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আরটি (RT)।