
কালীগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় এসআই ও বিএনপি নেতার মৃত্যু
গাজীপুরের কালীগঞ্জে রাতের ডিউটি শেষে ফেরার পথে বেপরোয়া গতির একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় পুলিশের একটি উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং স্থানীয় বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিকআপটি উদ্ধার ও এর হেলপারকে গ্রেফতার করেছে, যদিও মূল চালক এখনও পলাতক রয়েছে।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেনের বক্তব्यानুসারে, গত ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ৩টা ৩৫ থেকে ৩টা ৪০ মিনিটের মধ্যে কালীগঞ্জ পৌরসভার তুমলিয়া এলাকার শ্রমিক কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, রাতের রণপাহারা ডিউটি পালন করে সদস্যরা তিনজন সন্দেহভাজনকে আটক করে থানায় ফিরছিলেন। পথে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মোল্লা পুলিশের গাড়ি থামিয়ে ডিউটিরত সদস্যদের সাথে কথা বলেন। একই সময় টঙ্গী থেকে ঘোড়াশালগামী পিকআপ ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশ টিম ও বিএনপি নেতাকে ধাক্কা দেয়।
এই আঘাতে ঘটনাস্থলেই পুলিশের অস্ত্রহীন এসআই মো. মিজানুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম মোল্লা (৪৫) নিহত হন। পিকআপটিকে আটকানোর চেষ্টা করলে গাড়িটি অন্যান্য পুলিশ সদস্যকেও ধাক্কা দিয়ে গুরুতর আহত করে পলায়ন করে।
ঘটনার পরদিন কালীগঞ্জ থানায় কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ১০৫ ধারায় রুজু এই মামলার নম্বর ২৬।
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তদন্ত চালায়। গত ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে নরসিংদীর পলাশ থানাধীন ডাঙ্গা এলাকার কনফিডেন্স সিমেন্ট কারখানার সামনে থেকে অভিযুক্ত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়। একই অভিযানে পিকআপের হেলপার মো. রাজু শেখ (২৯) গ্রেফতার হয়। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর দক্ষিণ ফুকড়া (শেখ বাড়ি) এলাকার মো. লুৎফার রহমান ও সালমা বেগমের পুত্র বলে জানা গেছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাজু শেখ দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন চালক মো. মাজহারুল ইসলাম। পুলিশ বলছে, পলাতক চালক মাজহারুল ইসলামকে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রণপাহারা ডিউটি শেষে আসামিদের নিয়ে ফেরার পথে বেপরোয়া পিকআপের ধাক্কায় একজন এসআই ও একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা নিহত হন। মামলার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে, সিসিটিভি ও প্রযুক্তির সাহায্যে নরসিংদী থেকে গাড়ি উদ্ধার ও হেলপারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল চালককে দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।