
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল রেলওয়ে স্টেশনে বাংলাদেশ পুলিশের বিজিবির বর্ডার গার্ডসহ উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের সময় মালামাল নিয়ে পালানোর চেষ্টা ও মোবাইল ভিডিও ধারণের ঘটনা এক যাত্রীর কাছে বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর রাতের অনুমানিক সময় থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের কয়েকজন যাত্রী এই অভিযোগ করেন। সোহেল নামের এক যাত্রী জানান, ট্রেন পথে নিয়মিত যাত্রী। বুধবার ট্রেন থেকে শশীদল স্টেশনে নামার পর তিনি দেখতে পান, একদল লোক বস্তা ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করছেন। এতে যাত্রীদের ওঠানামায় ভোগান্তি ছিল। হঠাৎ সেখানে বিজিবি সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি দেখে এক যাত্রী মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক ব্যক্তি সামনে এসে তাঁকে ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেন এবং মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। ভয়ে ওই যাত্রী বেশিক্ষণ ভিডিও ধারণ করতে পারেননি বলেও দাবি করা হয়েছে।
ওই যাত্রীর দাবি, ঘটনাস্থলে বিজিবির মাত্র দুজন সদস্যকে অভিযান পরিচালনা করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, মালামাল বহনকারী লোকজনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক বেশি। এ কারণে অভিযান চলাকালে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করছেন তিনি।
তবে কী ধরনের মালামাল বহন করা হচ্ছিল, সেগুলোর বৈধতা, এ ঘটনায় কতজন জড়িত ছিলেন এবং অভিযান শেষে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিনের মতে, কুমিল্লা-৫-তে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগের পরও প্রকাশ্যে ট্রেনে চোরাই পণ্য পরিবহনের অভিযোগ দুঃখজনক। এর আগেও একই স্থানে ট্রেনে অবৈধ মালামাল পাচারের ভিডিও ধারণ নিয়ে সাংবাদিক ও পুলিশ চোরাই কারবারিতে হাতে হামলার শিকার হয়েছিল বলে জানা গেছে। শশীদল রেলওয়ে স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বহন করা মালামালের বৈধতা যাচাই, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং ভিডিও ধারণে বাধা ও হুমকির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে শশীদল বিওপির কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন মুঠোফোনে জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে কিছু ভারতীয় অবৈধ চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তবে ভিডিও ধারণে বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।