
শ্যামনগরে দস্যুতা নির্মূলের দাবিতে গনমিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি
সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা ও জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের নিশ্চয়তার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনীতে গনমিছিল ও প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সাতক্ষীরা রেঞ্জ সংলগ্ন উপকূলীয় প্রেসক্লাব চত্বরে কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতা আব্দুল হালিম। মোঃ রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় বিভিন্ন স্থানীয় ও উপকূলীয় এলাকার জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মানুষজন জানান—সুন্দরবনে বনদস্যুদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে, অপহরণ ও মুক্তিপণের মতো অপরাধ দমন ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তাদেরা জানান।
বনদস্যু নির্মূল কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের নেতা সালাউদ্দিন লিটন বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে ও বাওয়ালি প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। বনদস্যুদের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণভাবে বনদস্যুমুক্ত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
কর্মসূচিতে অন্যান্য বক্তরা উল্লেখ করেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বনদস্যুদের ভয়ে জেলে-বাওয়ালিরা নিরাপস্থে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারেন না। অনেক সময় অপহরণ ও মুক্তিপণের আতঙ্কে তাদের পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মতামত তাদেরা জানান।
কর্মসূচি থেকে সুন্দরবনে নিয়মিত টহল জোরদার, বনদস্যুদের আস্তানা চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনা, অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বি এন পির সদস্য সচিব জি এম রস্তুম আলী গাবুরা ইউনিয়ন বি এন পি সদস্য সচিব খায়রুল ইসলাম, যুবনেতা খালিদ হোসেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউ পি সদস্য এম এম রবিউল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বি এন পি নেতা হেলাল উদ্দিন, ওহিদুল ইসলাম, আবু হোসেন, গাবুরা ইউনিয়নের সাবেক ইউ পি সদস্য, মাস্টার আব্দুর রহিম, সিরাজুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতা আশিকুর রহমান আশিক, ইয়াছিন আরাফাত সহ বনদস্যু নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আরও বলেন, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে শুধু সাময়িক অভিযান নয়, ধারাবাহিক নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। উপকূলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুন্দরবননির্ভর অর্থনীতি ও জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করা হয়।