
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের পেছনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সক্রিয় ভূমিকা থাকার অভিযোগ তুলেছেন। একই সাথে তিনি আন্দোলনের আড়ালে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে জড়িত থাকার দাবি করেছেন। সোমবার সকাল নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই অভিযোগগুলো উঠিয়েছেন।
রাশেদ খানের লেখা অনুযায়ী, জামায়াত আমিরের ‘লং মার্চ’ সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের পর থেকে রাজপথ উত্তপ্ত করে অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, গত রোববার মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে ঘটা ঘটনাগুলোর পেছনে জামায়াত-এনসিপি নেতাকর্মীরা সাধারণ শ্রমিকদের সংগঠিত করে মাঠে নামিয়েছিলেন। রাশেদ খান এ ঘটনাগুলো ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে অস্থির করার একটি ‘ভয়ংকর পরিকল্পনার’ অংশ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীর পোস্টে আরো বলা হয়েছে, আন্দোলনের ভেতরে ঢুকে পুলিশের গাড়ি, নাগরিকের পিকআপ ও পোশাক কারখানাগুলোতে আগুন দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তিনি দাবি করেছেন, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। রাশেদ খান প্রশ্ন করেছেন, আওয়ামী লীগের অগ্নিসন্ত্রাসে উসকানিদাতা হিসেবে জামায়াত আমিরকে আইনের আওতায় আনা উচিত কি না।
গौरতलब, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও রাশেদ খান শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, জামায়াত ও এনসিপি নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ছিলেন। তাঁর দাবি, শ্রমিক পরিচয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়ে কেউ কেউ সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন।