
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মস্কো সফরে গিয়ে পুতিনের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং এই বার্তাটি রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য প্রকাশ করেছে, তবে বার্তার বিষয়বস্তু এখনো জানা যায়নি।
ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক চলছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারনে এই সম্পর্কে কিছু পরিবর্তন এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পটভূমিতে মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এরপরও রাশিয়া ইরানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়ে এসেছে যে, সামরিক সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে হবে। এমনকি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাবও দিয়েছে মস্কো।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসের বৃহস্পতিবার তারিখের একটি প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন পেলেই সশস্ত্র বাহিনী অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, যদিও অভিযান কতদিন চলবে সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
সম্ভাব্য অভিযান পরিচালনার জন্য ১২টির বেশি যুদ্ধজাহাজে কয়েক হাজার মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুতকেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে তেহরান ও মস্কোর মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে পুতিনের কাছে বার্তা পৌঁছানোর ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ না হওয়ায় দুই দেশের আলোচনায় নতুন কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক সমঝোতা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।