
বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর রিটেইল ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যাটফর্ম প্রিয়শপ ২০২৬ সালের ‘মিনিংফুল বিজনেস ১০০’ (এমবি১০০) তালিকায় স্থান পেয়েছে। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক প্রভাব সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজের জন্য প্রিয়শপকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ওই দুটি ক্ষেত্র হল— ‘মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ এবং ‘শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো’।
প্রিয়শপ প্রযুক্তিনির্ভর কমার্স ও এমবেডেড ফাইন্যান্স ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে মুদি দোকানি, ব্র্যান্ড, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীজনকে একটি প্ল্যাটফর্মে unite করছে। এর ফলে খুচরা ব্যবসার সরবরাহব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পণ্য ও আর্থিক সেবা পাওয়া সহজ হচ্ছে।
এমবি১০০-এর এটি অষ্টম সংস্করণ। বিশ্বজুড়ে যেসব উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান ব্যবসার মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনছেন এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখছেন, তাদের এই তালিকার মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের তালিকায় ৩০টির বেশি দেশ থেকে ৯০০-এর বেশি মনোনয়ন জমা পড়েছে। সমতা, সামাজিক প্রভাব, উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং বড় পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের সক্ষমতার ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে।
তালিকায় অন্তর্ভুক্ত উদ্যোক্তা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, করপোরেট টেকসই উন্নয়নবিষয়ক নেতৃত্ব এবং প্রভাবভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যবসার মাধ্যমে সমাজ ও পরিবেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া।
প্রিয়শপের একটি প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের ক্ষুদ্র খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা। একটি মহল্লার মুদি দোকানের ব্যবসা মূলত সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চলতি মূলধনের সুবিধা পাওয়ার ওপর নির্ভর করে। এই সেবাগুলো একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে দোকানিদের জন্য ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের ৫০ লাখের বেশি খুচরা দোকানিকে সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য রেখেছে এবং একই ধরণের সম্ভাবনাময় বাজারে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে চায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উন্নতির সঙ্গে নিজেদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তোলা হয়েছে।
এ অর্জন সম্পর্কে প্রিয়শপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিকুল আলম খাঁন বলেন, “প্রিয়শপের শুরু থেকেই আমরা বিশ্বাস করেছি, অনগ্রসর ও অবহেলিত বাজারের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারলে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক মূল্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব তৈরি করা সম্ভব। এই স্বীকৃতি আমাদের সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, “এটি শুধু প্রিয়শপের অর্জন নয়; আমাদের টিম, বিনিয়োগকারী, অংশীদার এবং বিশেষ করে সেই সব খুচরা বিক্রেতার অর্জন, যাঁরা প্রতিদিন আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন।”
এমবি১০০ তালিকায় স্থান পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু সম্মাননাই পায় না, বছরজুড়ে বিভিন্ন পেশাদার সহায়তা, বিনিয়োগের সুযোগ, সম্ভাব্য ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক উদ্যোক্তা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগও পায়।
প্রিয়শপের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা এবং খুচরা ব্যবসা খাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় বাজারের সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেল কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করতে পারে, এ অর্জন তার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।