
শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন। এই সভায় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা এবং চিরস্থায়ী হওয়ার বাসনার কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা ছিল। তারা চাইছিল যেখানেই যাবে, সেখানেই চিরস্থায়ী হবে। তিনি জানান, আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতা ছিল না এবং তারা সমস্ত কিছু দখল করে নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধুমাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি। ইলিয়াস এখনো ফিরে আসেননি এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যারা এখনো ফেরেননি, তাঁদের পরিবার জানে যে তাদের ফিরে আসতে কতটা ত্যাগ-তিতিক্ষা করতে হয়েছে।
দেশের স্বাধীনতা যেমন একক কারও কৃতিত্ব নয়, তেমনি ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানও কারও একার নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। কেউ যদি এই ঘটনার একক মালিকানা দাবি করতে থাকেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত কারও মালিকানাই থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চব্বিশের মালিকানা যারা দাবি করতে থাকবেন, তাদের রাজনীতি নবীনই থেকে যাবে এবং কোনো দিন বড় হতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, যারা ইতিহাস জানে না, তাদের সঙ্গে তর্ক করা আহাম্মকের কাজ।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের প্রয়োজন নেই। সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কাজ দেশসেবা করা। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক চাপ, লোভ কিংবা ভয়ের কারণে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের কারণে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আরও দুই-একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই নির্বাচনব্যবস্থা বিশুদ্ধ হয়ে উঠবে এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সূচনা হবে। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয় এবং কোনো সরকার চিরস্থায়ী নয়। সুতরাং পাঁচ বছর পরপর ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যয় রাখা এই সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।