
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপের নির্দেশ দিয়েছেন আধুনিক হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত বেঞ্চ বলছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নদীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকাসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তবে আদালতের সেই নির্দেশনার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিবেদন জমা দেননি। রিটকারীদের বক্তব্যে, আগে হাইকোর্ট রুল দিয়েছিল ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর। সেই রুলের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর সীমানা জরিপ ও অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির বিষয়টি ছিল। রবিবার এসময় শুনানির পর বিচারপতি এই বেঞ্চের দায়িত্বে শুনানি নেওয়া হয়। রিট আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খান।
শেষের শুনানিতে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকাসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল ২০২৩ সালে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আদালতে কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। ফলে নদী দখল ও দূষণ অব্যাহত রয়েছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা ও পরিবেশের ওপর।
রবিবার শেষে আদালত বেঞ্চ বলেন, নদীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপ সম্পন্ন করে অবৈধ দখলদারদের তালিকাসহ প্রতিবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলায় এইইচআরপিবির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারওয়ার আহাদ চৌধুরী।
বিবাদী করা হয়েছে পরিকল্পনা, নৌপরিবহন, পরিবেশ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ১৯ জনকে। আদালতের নতুন নির্দেশনার ফলে কর্ণফুলীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপ এবং অবৈধ দখলদারদের শনাক্তকরণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম আবারও সামনে এল।