
আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমালোচনা করেছেন যে, তাঁর রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার বিষয়টি এই দুটি দলের জন্য সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলনে অংশগ্রহণ, আটক ও রিমান্ডের অভিজ্ঞতা সহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন।
পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, “জামাত এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছেন যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটা সহ্য করতে পারছে না। তারা হাঁফাচ্ছে জিহবাটা বের করে।” প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিজের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি টিপ্পণি করেছেন, “ওরা জ্বলতে থাকুক।”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক সহযোগীকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। রাজনীতিতে সময় দিয়ে অনেককে শুভচিন্তকদের সহায়তায় জীবন যাপন করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বাবা-মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারণে তাঁকে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং এক পর্যায়ে ফল ও মধুর ব্যবসা করেছেন তিনি।
আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকা বর্ণনা করলে তিনি বলেছেন, সুযোগ সীমিত থাকলেও মুক্তির লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ২০১৮ সালের আন্দোলন, মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রচারের জন্য লিফলেট তৈরির কাজ নিজ হাতে করেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
আটক ও গুমের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তারেক রহমান লিখেছেন, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথম আটক হন। একই বছরের ১৪ জুলাই ডিএজিএফআইর মাধ্যমে গুমের শিকার হন। এরপর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডিবি এবং ২২ জুলাই ডিএজিএফআই তাঁকে আটক করে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ডে থাকার কথাও পোস্টে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি মতে, তাঁকে যারা সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে বিরোধ রাজনৈতিক নয়, বরং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা যাবে না—এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন তিনি। দাবি করেছেন তিনি যে, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য বিভিন্ন বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট ভারতের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ ও জামায়াত আমির গোলাম পরওয়ারের সাথে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনের উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে এই বিষয়গুলোতে তাঁর বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই পোস্টের ভিত্তিতে সম্ভব নয়।
সরকারের আট মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ক্ষমতায় ফিরে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি অস্থির হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান। বিএনপিতে কারও পদায়নে জামায়াত খুশি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে জুলাইয়ের মামলায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা কারাগারে থাকলে তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, জামিনে মুক্ত থাকার পর কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা যাবে। তাঁর মতে, জুলাইয়ের সাথে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর এটিই একমাত্র উপায়। সবশেষে বাংলাদেশপন্থী দল, জাতীয়তাবাদী দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোগীদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব। তাঁকে নিজের পাশে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা জানান তিনি।
