
ইরানের বিরোধী দেশদের বিরোধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেখারচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো শক্তিই ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে পতন অনিবার্য। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও তার মিত্রদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে এটি ছিল ইরানের বাহিনীর মুখপাত্রের দাবি ও বক্তব্য, যা মেহর নিউজের এক প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে আলোধন করা হয়েছে।
রোববার ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজের এক প্রতিবেদনে শেখারচির এসব বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বিপর্যয় কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন নয়; এর মধ্য দিয়ে আরও বড় বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে, যে ইরানের মনোবল ভেঙে দেওয়া যেতে সক্ষম নয়।
তিনি আরও বলেন, আগ্রাসন, গুপ্তহত্যা ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের মার্কিন নীতি ও সামরিক কৌশল ইরানের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। দেশটির নেতৃত্ব, জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর অটল সংকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি। শেখারচি বলেন, দৃঢ়, অবিচল ও লৌহকঠিন মনোবলের অধিকারী ইরানের বিরুদ্ধে যে শক্তি অবস্থান নেবে, বিশ্বজনমতের চোখে তার পরিণতি পতন ও বিচ্ছিন্নতা হবে।
তিনি বলেন, ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় দেশটির কথিত বারবার পরাজয়, সামরিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়া এবং হুমকি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার বিষয়গুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনা হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প ও তাঁর মিত্রদের সমালোচনা করে শেখারচি বলেন, ট্রাম্প এবং তার বেপরোয়া, কট্টরপন্থি ও সন্ত্রাসী মানসিকতার মিত্ররা প্রাচীন জাতিকে নাশ করার উদ্যোগে গিয়েছিল বলে তিনি অংশ নেন; কিন্তু পরিস্থিতি উল্টে গেছে। তিনি বলেন, তারা নিজেরাই কৌশলগত ক্ষাহণ, গভীর অভ্যন্তরীণ সংকট এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের কাছে পরাজয়ের শিকার হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিপুল শক্তি ও অটল সংকল্পের মুখোমুখি হওয়া যেকোনো শক্তিকে শেষ পর্যন্ত পতনের মুখে পড়তে হবে এবং বিশ্ববাসীর কাছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে হবে। তিনি বলেন, এই কৌশলগত পরাজয় প্রমাণ করে যে বিশ্বশক্তির ভারসাম্য সব সময় আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর কাছে আশ্রয় দেয় না।
এই বক্তব্যগুলো ইরানের বাহিনীর মুখপাত্রের দাবি ও বক্তব্য; এগুলো মেহর নিউজের প্রতিবেদনের আলোকে এসেছে বলে জানা গেছে, তবে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বীকৃত প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি। সোত্রে উল্লেখ করা যায় যে, ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ে এই দাবি প্রকাশ হলেও বিশ্ববাসীর মধ্যে এখনো স্পষ্ট সত্য আলোচনা চলছে না।
