
রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকার সেই দারুণ চতুর্ধা খুনকাণ্ডে নতুন মোড় পাওয়া গেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ আলামতে পাওয়া ডিএনএ নমুনা গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের সাথে মিলেছে। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণে হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয় কৌশলগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করছে তদন্ত সংস্থা।
ঘটনাস্থল থেকে জব্দ আলামত ও ফরেনসিক পরীক্ষা
সিআইডির রংপুর অফিসের বিশেষ পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী বৃহস্পতিবার জানান, ঘটনাস্থল থেকে মোট ৩৫টি আলামত জব্দ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কামড়ানো খেজুর, খেজুরের বিচি, শসা এবং সিগারেটের অবশিষ্টাংশ উল্লেখযোগ্য। এই আলামতগুলো তিন দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার ফলাফলে কয়েকটি আলামতে পুরুষ মানুষের ডিএনএ শনাক্ত হয়েছে, যা পরে দুজন আসামির নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, পরীক্ষায় ওই আলামতগুলোতে কেবল দুইজন পুরুষের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মানে ঘটনাস্থলে তৃতীয় কাউকে উপস্থিত থাকার কোনো সাক্ষ্য নেই। এই তথ্যটি মামলার দিকনির্দেশনা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে।
ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া
ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আনা হয়েছিল। সেখানে তাদের রক্ত ও লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
২১ আগস্টের সে ভয়াবহ রাত
গত ২১ আগস্ট ভোরে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় খুন করা হয় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। একই পরিবারের চার সদস্যের একসাথে হত্যায় পুরো এলাকায় সনসনী ছাড়িয়েছিল। ঘটনার পর পুলিশ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
বৈজ্ঞানিক প্রমাণের গুরুত্ব
আইনজীবীদের মতে, ডিএনএ প্রমাণ ফৌজদারি মামলায় সবচেয়ে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। চোখে দেখা সাক্ষীর বক্তব্যে বেমানানতা থাকলেও ডিএনএ রিপোর্ট কৌশলগতভাবে অস্বীকার্য নয়। সিআইডি সূত্র জানায়, এই প্রমাণ মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় তদন্তপক্ষের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে মজবুত করবে।
তদন্তকারী আধিকারিকরা আরও জানিয়েছেন, মামলার অন্যান্য দিকগুলোও গভীরভাবে তদন্ত করা চলছে। ঘটনার কারণ, উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ جاری আছে। বিচারের জন্য চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে সকল প্রমাণ পূরণ করার দিক থেকে কাজ করা হচ্ছে।
সূত্র: bd24live.com
