খুলনা, বাংলাদেশ | |

Breaking News

  রিজভীর সঙ্গে মিতুলের সৌজন্য সাক্ষাৎ, আড়ংঘাটার নানা সমস্যা তুলে ধরলেন।
  আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কেশবপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
  নিরাপদ খুলনা চাই-এর উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  ছবি আছে গ্রামীন ঐতিহ্যের চিরচেনা খেলাধুলা বিলুপ্ত ঈদগাঁওতে 
  বিকেএসপিতে ডাক পেল ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরের ক্ষুদে ফুটবলার জিদান
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ শাহিনুর রহমান শাহিনের
  ফলোআপ ইসলামাবাদ থেকে চুরি হওয়া গরু দুইটি উদ্বার
  খুলনায় বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব খুলনা মহানগর শাখার ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত
  ডুমুরিয়া খর্নিয়ায় মামলা-হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ
  খুলনায় ইউপি নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।চেয়ারম্যান প্রার্থী মতলেবুর রহমান মিতুল এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত।

চুপ থাকার ৫ উপকারিতা ও ফজিলত, ইসলামে কী বলা হয়েছে?

ইসলামে নীরবতার গুরুত্ব ও পাঁচ উপকারিতা: জিহ্বার হেফাজত কেন জরুরি

কথার মাধ্যমে অন্যের মনে আনন্দ জাগানো যেতে পারে, তেমনি অসংযমিত কথাবার্তা বিবাদ, ভুল বোঝাবুঝি এবং সম্পর্কের অবনতির কারণ হতে পারে। এ কারণেই ইসলামে জিহ্বার হেফাজত এবং কথা বলার ক্ষেত্রে সংযমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা অনুযায়ী, অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে চলা, মিথ্যা ও পরনিন্দা থেকে বিরত থাকা এবং কথা বলার আগে তার পরিণতি চিন্তা করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

হাদিসে উল্লিখিত শিক্ষা অনুযায়ী, আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখنےवाले ব্যক্তিকে ভালো কথা বলা বা নীরব থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কথা যদি কারো উপকার করে, তাহলে ভালো কথা বলা উচিত; আর কথা অনর্থক, ক্ষতিকর বা পাপের কারণ হলে নীরব থাকাই ভালো। আরেকটি হাদিসে জিহ্বা এবং ব্যক্তিগত লজ্জাস্থান রক্ষার দায়িত্ব নেওয়াকে জান্নাতে যাওয়ার পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নীরবতার পাঁচটি প্রধান উপকারিতা নিম্নরূপ:

প্রথমে, মিথ্যা, গীবত, অপবাদ এবং গালাগালের মতো গুনাহ থেকে বাঁচা যায়। অসতর্ক কথাবার্তা মানুষকে অচেতনভাবে পাপে জড়িয়ে ফেলতে পারে। কথা বলার আগে চিন্তা করা আত্মশুদ্ধির একটি উপায়।

দ্বিতীয়ত, পরিবার, বন্ধু বা সমাজে ঝগড়া-বিবাদ এবং ভুল বোঝাবুঝি কমে। রাগের মাথায় বলা একটি বাক্য দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে। প্রয়োজনের সময় নীরব থাকা এবং অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা বিবাদ এড়াতে সাহায্য করে।

তৃতীয়ত, আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনে সহায়তা করে। জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়, বিশেষ করে রাগ, ক্ষোভ বা অহঙ্কারের সময়। কথার পরিণতি চিন্তা করার অভ্যাস আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করে এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির সচেতনতা জাগ্রত রাখে।

চতুর্থত, ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। ভেবেচিন্তে কথা বলা এবং অন্যের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া ব্যক্তির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। অন্যদিকে, প্রতিটি বিষয়ে মন্তব্য বা অন্যের ব্যক্তিগত জীবনে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দিতে পারে।

পঞ্চমত, পরকালের মুক্তির পথে এটি সহায়ক। ইসলামে জিহ্বার হেফাজতকে পরকালের সফলতার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিটি কথা ও কাজের জন্য জবাবদিহি থাকা স্মরণে রাখা জরুরি। তবে এর মানে এই নয় যে সব পরিস্থিতিতে চুপ থাকলেই মুক্তি নিশ্চিত; কথা ও কাজে সংযম, সৎকর্ম এবং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।

সব সময় চুপ থাকাই কি সর্বোত্তম?

ইসলামে নীরবতার গুরুত্ব থাকলেও, এর অর্থ অন্যায্যের সামনে নীরব থাকা নয়। সত্য কথা বলা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায্যের প্রতিবাদ করা এবং মানুষকে ভালো কাজের দিকে আহ্বান জানানো ইসলামের শিক্ষা। কারো অধিকার ক্ষুণ্ন হলে, নিরপরাধ কেউ অন্যায্যের শিকার হলে বা সত্য প্রকাশ জরুরি হলে দায়িত্বশীলভাবে কথা বলা প্রয়োজন।

নীরবতা সব সময় দুর্বলতার লক্ষণ নয়; এটি ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিচয়ও হতে পারে। আবার সঠিক সময়ে সত্য কথা বলা সাহস ও দায়িত্বশীলতার প্রকাশ। ইসলামের শিক্ষা হলো, জিহ্বাকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে নিজের বা অন্যের ক্ষতি না হয়।

উপসংহার হিসেবে বলা যায়, কথা বলার আগে চিন্তা করা, মিথ্যা ও পরনিন্দা থেকে দূরে থাকা এবং প্রয়োজনের সময় সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো—এই গুণগুলো নিজের জীবনে ধারণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

October 22, 2026
চুপ থাকার ৫ উপকারিতা ও ফজিলত, ইসলামে কী বলা হয়েছে?

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 ichamotinews .com

Developed By: ShimantoIT