
ভূরুঙ্গামারীতে ছয় মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় মাদ্রাসা সুপারকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ছয় মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় এক মাদ্রাসা সুপার ও অফিস সহকারীকে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী সফিয়ার রহমানকে অফিস কক্ষের দরজায় তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা। পরে বিকেলে পুলিশ এসে তাদেরকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসে।
জানা গেছে, মাদ্রাসার ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী ছয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। বেতন না পাওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বেতন বন্ধ থাকায় দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পাঠদান করতে পারছেন না। এতে মাদ্রাসাটির শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী বলেন, প্রায় ছয় মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে। মাদ্রাসা সুপার বেতন-বিলের কাগজে স্বাক্ষর দিতে গড়িমসি করায় বেতন বন্ধ রয়েছে। বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। এর আগেও সাত মাস বেতন বন্ধ ছিল। সুপারের কারণে বারবার বেতন বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত বেতন প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ভবিষ্যতে যাতে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। আরেক সহকারী শিক্ষক রত্না পারভিন জানান, বেতন ভাতা ছাড়া তাদের পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন তারা।
সহকারী মৌলভী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, বেতন ভাতা না দেওয়া পর্যন্ত তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে। বেতন ভাতা প্রদান করলে তারা পাঠদানে ফিরবেন।
অবরুদ্ধ সুপার সাইদুর রহমান অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানের উপর দোষ চাপিয়ে দেন। তার ভাষায়, আমি বেতন আটকাই নাই। বেতনের সকল কাগজপত্র প্রস্তুত করেছিলাম, সেগুলো অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
তবে অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, শিক্ষকদের সাথে সমঝোতা করে তিনি বেতন দিবেন তাতে আমার আপত্তি থাকার কথা না। উনি সব মিথ্যা কথা বলছেন। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, বিকেলে সুপারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের করে থানায় আনা হয়েছে। তাকে তার অভিভাবকের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ জানান, মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে বিষয়টি সুরাহা করতে মাদ্রাসার সভাপতিকে অবগত করা হয়েছে।
