
ইসরাইলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানযাহুকে ক্ষমতা থেকে বাদ দিতে বিরোধী দলগুলির মধ্যে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা তীব্র গতিতে চলছে। এই প্রক্রিয়ায় নেতানযাহু-वিরোধী জোটের ভেতর থেকেই আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে সমর্থন করার ঘোষণা দিয়েছেন জোটের দুটি বড় দলের নেতা—নাফতালি বেনেট এবং ইয়ায়ার গোলান।
রোববার থেকে শুরু রাজনৈতিক তৎপরতা এবং দলগত যৌথানুযোগ সোমবারেরও অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলের প্রখ্যাত দৈনিক ‘দ্য টাইমস অব ইসরাইয়েল’-এর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য सामने এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানযাহু-वিরোধী চারটি জায়নিস্ট দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘চেঞ্জ ব্লক’ (পরিবর্তন ব্লক) বর্তমানে সরকার গঠনের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা করছে। তবে সংসদে (নেসেট) সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে তাদের আরব নেতৃত্বাধীন দল, অতিরিক্ত রক্ষণশীল ইহুদি দল বা আবার নেতানযাহুর লিকুদ পার্টির সাথে সমঝোতা করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হতে পারে।
জোটের একটি বড় দল ‘ইয়াশ আতিদ’-র নেতা গাদি আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার হিসেবে সবচেয়ে आगे আছেন। গত নির্বাচনে তাঁর দল ২১টি আসন জয় করেছে। অন্যদিকে, নাফতালি বেনেটের ‘বে’ইয়াচাদ’ পার্টি ১২টি এবং ইয়ায়ার গোলানের নেতৃত্বাধীন ‘ডেমোক্র্যাটস’ পার্টি ৮টি আসন পেয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেনেট জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারাবধানে তিনি ভোটারদের जनাদেশকে সম্মান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির আलোকে তিনি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করছেন। গোলানও আইজেনকটকে মনোনীত করার পক্ষে মতামত প্রকাশ করেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এছাড়া জোটের চতুর্থ দল ‘ইসরাইল বেইতেউ’-র নেতা আভিগদর লিবারম্যানের সাথে আইজেনকটের বৈঠক হয়েছে। তবে আরব দলদের সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে এই দুজনের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। লিবারম্যানের দাবি, নির্বাচনী প্রচারাবধানে এই ধরনের সরকার গঠনের সংকেত দেওয়া হলে বিরোধী জোটের রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
বিরোধী জোটের সামনে একটি তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো নেসেটের বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নিয়োগ দেওয়া। ওহানা নেতানযাহুর লিকুদ পার্টির সদস্য। সংসদের কার্যসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দूसरी ओर, নেতানযাহুর নিকটস্থরা আইজেনকটকে বার্তা দিয়েছেন যে, স্পিকার ওহানাকে সরানোর উদ্যোগ চলতে থাকলে লিকুদ পার্টির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। তবে আইজেনকটের শিবির থেকে জানানো হয়েছে, স্পিকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং নেতানযাহুর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয় তাদের বিবেচনায় নেই।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক (স্টেট কন্ট্রোলার) নিয়োগের জন্য নির্বাচন পুনরায় আয়োজনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। গত জুনে নেতানযাহুর ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল রাবেলোকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক উঠলে দেশের হাইকোর্ট পুনর্বচন আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মোটামুটি, নেতানযাহু-वিরোধী জোটের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। আরব দল ও অতিরিক্ত রক্ষণশীল ইহুদি দলদের সমর্থন मिलবে কিনা, সেটি নিয়ে জোটের ভেতরেও মতপার্থক্য রয়েছে।
