
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম লালমোহন উপজেলা পরিষদে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠন কর্তৃক তাঁকে প্রদত্ত গণসংবর্ধনায় বক্তৃতাকালে ক্ষমতাসীন দলকে ‘পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চোরের দল’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনেন এবং উল্লেখ করেন যে বর্তমান সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
স্পিকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনে করেছিল যে লুটপাট করে তারা চিরকাল ক্ষমতাতে থাকবে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে মনে করা হয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে অনেক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের জন্য দণ্ড হয়েছে এবং শেখ হাসিনারও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে বলে আদালত রায় দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্পিকার আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রত্যেক নাগরিকের বাক স্বাধীনতা আছে। তারা সরকার ও সরকারপ্রধানের সমালোচনা করতে পারেন। এক নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি হাসপাতাল দখলের অভিযোগ ওঠায় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন। যদিও তিনি ভালো কাজ করেছিলেন, তিনি পুলিশের ওপর গুলি চালানো মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার হাতে অস্ত্র নেওয়া ঠিক হয়নি, তাই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। যা অতীতে কোনো দল তার দলের এমপি ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহনশীলতার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম মজুমদার, উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. জাফর ইকবালসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
স্পিকারের বক্তব্যে করা অভিযোগগুলো দলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি বা আদালতে প্রমাণিত হয়নি বলে খবরটি প্রকাশ করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে হত্যাকাণ্ডের জন্য দণ্ড হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা রেকর্ড প্রকাশ করা হয়নি।
