
জুয়েল মাদবের মৃত্যুর পর শরীয়তপুরের এক মা হয়ে গেলেন দুই সন্তানের একমাত্র সুরক্ষার মানুষ। চার বছরের মেয়ে রিদিতা ও দুই বছরের ছেলে সাইফানকে আদর করে বলেছিলেন, ফেরার পথে তাদের জন্য চকলেট নিয়ে আসবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আর রাখা হলো না। মঙ্গলবার সকালে নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে জুয়েলসহ জাজিরার পাঁচ ব্যবসায়ী নিহত হন।
জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার বলেন, “আমার বাচ্চাদের বলে গেছে, আসার সময় চকলেট নিয়ে আসবে। এখন এই চকলেট কে আনবে?” স্বামী হারানোর শোকে ভেজা মুখে তিনি বলেছেন, “তাদের মাকে বারবার জিজ্ঞেস করছে, ‘বাবা কই, বাবা কখন আসবে?’ কিন্তু আমি কিছু বলতে পারি না।”
দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ার জন্য দুশ্চিন্তা ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৌসুমী বলেন, “কীভাবে বড় করব? তাদের ভবিষ্যত কীভাবে গড়ব?”
দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে ঘটেছে এ সংঘর্ষ, যেখানে জুয়েলসহ অন্যান্য পাঁচ ব্যবসায়ী হারালেন। নিহতদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে এবং দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ডুবিসায়বর বাজার বণিক সমিতির সভাপতা মোকলেছুর রহমান বলেন, “এই মানুষগুলোর মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমাদের বাজারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁরা সবাই বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মালামাল কিনে এই বাজারে বিক্রি করতেন। বাজার কমিটির পক্ষ থেকে আমরা তাঁদের পরিবারের পাশে রয়েছি।”
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। নিহতদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
