খুলনা, বাংলাদেশ | |

Breaking News

  রিজভীর সঙ্গে মিতুলের সৌজন্য সাক্ষাৎ, আড়ংঘাটার নানা সমস্যা তুলে ধরলেন।
  আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কেশবপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
  নিরাপদ খুলনা চাই-এর উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  ছবি আছে গ্রামীন ঐতিহ্যের চিরচেনা খেলাধুলা বিলুপ্ত ঈদগাঁওতে 
  বিকেএসপিতে ডাক পেল ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরের ক্ষুদে ফুটবলার জিদান
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ শাহিনুর রহমান শাহিনের
  ফলোআপ ইসলামাবাদ থেকে চুরি হওয়া গরু দুইটি উদ্বার
  খুলনায় বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব খুলনা মহানগর শাখার ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত
  ডুমুরিয়া খর্নিয়ায় মামলা-হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ
  খুলনায় ইউপি নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।চেয়ারম্যান প্রার্থী মতলেবুর রহমান মিতুল এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত।

৫ হাজার গোপন সংস্থার জাল, চীন-রাশিয়া থেকে ইরান যাচ্ছে বিশাল সামরিক সরঞ্জাম

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম আমদানির একটি ব্যাপক গোপন নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে। বৃতহস্পতিবার প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ দাবি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) এর আদ্যক্ষরে পরিচিত ৫ হাজারেরও বেশি গোপন সামরিক ও আর্থিক সংস্থার মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অন্তত ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক ও ভারী ট্রাক আমদানি করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের আর্থিক লেনদেনের চিহ্ন ২০১৬ সাল থেকে পাওয়া যায়।

**আইআরজিসি ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা**

রয়টার্সের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এই নেটওয়ার্কের কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুদ্ধের মাঝপথেও ইরান কীভাবে তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত পুনর্গঠন করছে, তার একটি চিত্র এই প্রতিবেদনে উজাগর হয়েছে।

**ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির উপকরণ আমদানি**

প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট একটি সংস্থা (এমওডি ৩৪৬৪২৮) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি কथিতভাবে ১৮ মাসের মধ্যে বিপুল পরিমাণ রকেটের জ্বালানি, বিস্ফোরক, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ভারী ট্রাক আমদানি করেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানির তালিকায় ১৯ লাখ ডলারের ডেটোনেটর, কয়েক টন বিস্ফোরক, উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ এবং রকেট জ্বালানির উপাদান ছিল। বিশেষজ্ঞরা মতে, এসব উপকরণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও শাহেদ সিরিজের ড্রোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর পাশাপাশি ইউরোপ থেকে আইভেকো ট্রাক এবং জাপান থেকে টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজারও সংগ্রহ করা হয়েছে, যাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

**স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে সরবরাহ**

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, চীন, রাশিয়া, জার্মানি সহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইরানে সরঞ্জাম পৌঁছানো হয়েছে। রাশিয়া থেকে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজে, মধ্য এশিয়া থেকে ট্রাকের মাধ্যমে এবং চীন থেকে কার্গো বিমানে এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেও সরবরাহ বন্ধ হয়নি। যুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য সমুদ্রপথে ইরানে পৌঁছেছে। আমেরিকান নৌ অবরোধ সাময়িক স্থগিতের ঘোষণার নয় দিন পর গত ২৭ জুন ইলেকট্রনিকস পণ্যবাহী একটি চালান ইরানে পৌঁছেছে, যদিও জুলাইয়ের মাঝপথে অবরোধ আবার কার্যকর করা হয়।

**নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পদ্ধতি**

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইরানি সংস্থাগুলো বিদেশে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও মধ্যস্থতাকারীদের (ট্রাস্টি) মাধ্যমে পণ্য কিনে। বিদেশে থাকা ব্যাংকে জমা অর্থ ব্যবহার করে সরঞ্জাম কেনা ও পাঠানো হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো, পর্যালোচনা করা চালানের ৯৭ শতাংশে সরাসরি মুদ্রা স্থানান্তর ছাড়াই লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর নজর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। অধিকাংশ সংস্থা একই তেহরান ঠিকানা ব্যবহার করে এবং প্রতিষ্ঠার তারিখ ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ থাকলেও, নথি অনুযায়ী অধিকাংশই ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত।

**আমেরিকা ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া**

আমেরিকান অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনৈতিক অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো বন্ধ করলেও, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক কর্মসূচিতে অর্থায়নের ইরানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাবেক আমেরিকান অর্থ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি এই নেটওয়ার্ককে ইরানের সামরিক বাণিজ্যের একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা’ বলে চিহ্নিত করেছেন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পিটার স্যালিসবারি মতে, আমদানির তথ্য থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠনের একটি বৃহৎ উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

**পক্ষের প্রতিক্রিয়া**

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, হোয়াইট হাউস এবং আমেরিকান সেন্ট্রাল কমান্ড মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দিয়েছে। ইরানের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোও রয়টার্সের বিস্তারিত প্রশ্নের জবাব দেননি।

October 31, 2026
৫ হাজার গোপন সংস্থার জাল, চীন-রাশিয়া থেকে ইরান যাচ্ছে বিশাল সামরিক সরঞ্জাম

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 ichamotinews .com

Developed By: ShimantoIT