
ইসরায়েলে নেতনিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের দাবিতে তেল আবিবে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ২ হাজার মানুষ জড়ো হন। বামপন্থি তৃণমূল সংগঠন ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’র নেতৃত্বে এই বিক্ষোভকারীরা ইবনে গাভিরোল সড়ক ধরে রাবিম স্কয়ার পর্যন্ত মিছিল করেন।
বিক্ষোভকারীরা হিব্রু ও আরবি ভাষায় স্লোগান দেন। তাদের মধ্যে ছিল ‘ইহুদি আর আরব শত্রু হতে অস্বীকার করে’, ‘বর্ণবাদকে না, অংশীদারত্বকে হ্যাঁ’, ‘পরিবর্তনের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে’ এবং ‘সবার জন্য সমতা’। আরবি ভাষায় শান্তি, স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি উত্থাপিত হয়।
অন্যদিকে, একই স্থানের পৃথক এলাকায় প্রায় ২০০ নেতনিয়াহু-সমর্থক ডানপন্থি প্রতিবাদ করেন। তারা নির্বাচনের অনিয়মের তদন্তের দাবি জানিয়ে ‘নির্বাচন চুরি’র অভিযোগ তোলেন। নেতনিয়াহুর লিকুদ পার্টি দাবি করে, বৈরী বিদেশি সরকারের সহায়তায় আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে। প্রতিবাদীরা ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের গাজায় পাঠাও, সরকারে না’ போன்ற স্লোগান দিয়েছে। কয়েকজন তরুণ আরবদের উদ্দেশ্যে বর্ণবাদী ও বিদ্বেষমূলক স্লোগান দিয়াও देखा গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ডানপন্থি এক বিক্ষোভকারী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নাস্তি গণহত্যার শিবির আউশভিৎস ও সোবিবোরের নাম উল্লেখ করে বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ভয়াবহ হুমকি দেন। শিল্পী ইগাল শ্টাইমের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের আবার সোবিবোর তৈরি করে দেব।’ তিনি বিরোধী বিক্ষোভকারীদের আউশভিৎস ও বিরকেনাউয়ে পাঠানোর হুমকিও দেন বলে জানা গেছে। ওয়ালা সংবাদমাধ্যমকে শ্টাইম বলেছেন, ভিডিওতে ওই ব্যক্তির বক্তবyosের কেবল একটি অংশ তুলে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতনিয়াহুবিরোধী দলগুলো মিলে সংসদের ১২০ আসনের মধ্যে ৬৭টি আসন পেয়েছে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনকে लेकर ইহুদি-প্রধান বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। আরব দলों के साथ গাঁথবেন না এমন চারটি ইহুদি-প্রধান বিরোধী দলের আসনসংখ্যা ৪৮। অন্যভাবে, নেতনিয়াহু নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যাও সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১টির কম।
আরব-প্রধান দলগুলো মিলে ১৯টি আসন পেয়েছে, যা তাদের সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে এনেছে। এর মধ্যে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট উল্লেখযোগ্য।
নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নে আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার অভিযোগ উঠলেও ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই অভিযোগের তদন্তের পরিধি সীমিত। কমিশনের কথায়, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।
ইসরায়েলের নতুন সংসদের শপথগ্রহণের তারিখ ১০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
