
ইরান নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ রাখার স্বঘোষিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটি ভবিষ্যতে আরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারে। তবে বর্তমানে ইরানের কাছে ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লা সম্পন্ন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা যায়নি।
শনিবার তেহরানে একটি সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসি (ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর) এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ তথ্য জানান। পাল্লার সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমাদের জন্য ওই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।” তিনি কেবল বক্তব্য দিয়ে না থাকাই বাস্তবে সক্ষমতা প্রদর্শনের কথাও জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন কোনো হামলা হলে ভৌগোলিক সীমারেখা লাঙ্ঘন করে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক দিন পরই এই ঘোষণা আসে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনাই সম্প্রতি এ ধরনের সতর্কতা জারি করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছিল।
সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ইরানের পূর্বের ২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার সীমার আওতায় গ্রিস ও বলকান অঞ্চলের কিছু অংশ, পুরো আরব উপদ্বীপ, লেভান্ত অঞ্চল এবং মিসরের অধিকাংশ এলাকা পড়ত। এই সীমা তুলে নেওয়ার মানে ভবিষ্যতে তেহরান আরও দূরের লক্ষ্যভেদন ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে।
তবে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা মানে ইরান ইতিমধ্যে আরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে, সেটি নয়। এপি অনুযায়ী, ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাতে রয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নতুন কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কত হবে, সে বিষয়ে মোহেব্বি কিছু জানাননি।
এতে আগে চলতি বছরের মার্চে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ইরান থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। তবে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। এই ঘটনায় ইরানের প্রকৃত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরান তাদের মহাকাশ কর্মসূচিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অনেক দূরের মহাদেশেও আঘাত হানতে সক্ষম।
সামগ্রিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নিয়ে দীর্ঘদিনের স্বঘোষিত সীমা তুলে নেওয়ার ঘোষণা ইরানের সামরিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দেশটির নতুন সক্ষমতার প্রকৃত পরিসর কতটুকু, সেটি বোঝা যাবে ভবিষ্যতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও পরীক্ষার মাধ্যমে।
