খুলনা, বাংলাদেশ | |

Breaking News

  রিজভীর সঙ্গে মিতুলের সৌজন্য সাক্ষাৎ, আড়ংঘাটার নানা সমস্যা তুলে ধরলেন।
  আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কেশবপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
  নিরাপদ খুলনা চাই-এর উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  ছবি আছে গ্রামীন ঐতিহ্যের চিরচেনা খেলাধুলা বিলুপ্ত ঈদগাঁওতে 
  বিকেএসপিতে ডাক পেল ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরের ক্ষুদে ফুটবলার জিদান
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ শাহিনুর রহমান শাহিনের
  ফলোআপ ইসলামাবাদ থেকে চুরি হওয়া গরু দুইটি উদ্বার
  খুলনায় বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব খুলনা মহানগর শাখার ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত
  ডুমুরিয়া খর্নিয়ায় মামলা-হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ
  খুলনায় ইউপি নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।চেয়ারম্যান প্রার্থী মতলেবুর রহমান মিতুল এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত।

‘বাবা, আপনার মেয়েদের বাঁচাতে পারলাম না, আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন’

কক্সবাজারের উখিয়া ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকার বনশ্রীবাসী মো. মামুনুর রশিদ হারিয়েছেন তার দুই মেয়েকে—ইশরাত জাহান মালিহা ও লায়লা জাহান নাবিলা। মেয়েদের মরদেহ শনাক্তের জন্য রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা দিয়েছেন শোকাহত এই বাবা।

ঘটনার সময় পরিবারটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। সকাল ৮টার দিকে মামুনুর রশিদের বড় মেয়ের জামাই আশিকুর রহমান আশিক তার ফোন করে বলেন, “বাবা, আমি কাউকেই বাঁচাতে পারলাম না। আপনাদের মেয়েদেরও বাঁচাতে পারিনি, আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন।” এর পরই ফোন কেটে যায়। কিছুক্ষণ পর জানতে পারেন যে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। পরিবারটি রবিবার সকাল ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু দুই ঘণ্টা আগেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

মামুনুর রশিদ বলেন, রিসোর্টে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল একই জায়গায়, যেখানে ক্যানটিন ও রান্নার ব্যবস্থা ছিল। রিসোর্টের স্থাপনাগুলো কাঠের তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণে ভেতরে আটকা পড়া ব্যক্তিরা বের হওয়ার সুযোগ পাননি। তিনি দাবি করেন, যদি জরুরি পরিস্থিতিতে বের হওয়ার জন্য বিকল্প পথ থাকত, হয়তো এত মানুষের প্রাণ রক্ষা পেত।

নিহতদের মধ্যে মামুনুর রশিদের ছোট মেয়ে লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল তার। একটি সম্মেলনে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছিলেন নাবিলা। শিক্ষকেরা তাকে জাপানে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়েছিলেন। তবে এই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির জানান, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল ছাড়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সবার পরিচয় শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগবে।

এদিকে, সিআইডি কার্যালয়ে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা দিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন মামুনুর রশিদ। তাঁর এখন একটাই চাওয়া—দ্রুত মেয়েদের মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক, যেন অন্তত শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতাটুকু সম্পন্ন করতে পারেন।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 ichamotinews .com

Developed By: ShimantoIT